আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ মালাক্কা প্রণালীতে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর টোল বা শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির অর্থমন্ত্রী পুরবায়া ইউধি সাদেওয়া সম্প্রতি এই প্রস্তাবটি তুলে ধরেন। তিনি জানান, ইন্দোনেশিয়ার কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব বাড়ানোই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। মূলত প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তোর নির্দেশনা অনুযায়ী বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ইন্দোনেশিয়ার ভূমিকাকে আরও জোরালো করতেই এই নতুন ভাবনা শুরু হয়েছে।
জাকার্তায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পুরবায়া ইউধি সাদেওয়া বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে এই রুটে কোনো জাহাজ চলাচলের জন্য শুল্ক দিতে হয় না, যা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি এই ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালী ঘিরে ইরানের বিভিন্ন পরিকল্পনার উদাহরণ টেনে বলেন যে, ইন্দোনেশিয়াকেও এখন ‘আক্রমণাত্মক চিন্তার’ মাধ্যমে নিজেদের সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তবে এটি বাস্তবায়নে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের ওপর এর প্রভাব বিশদ বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
বাস্তবতা হলো, মালাক্কা প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ একক কোনো দেশের হাতে নেই; এটি ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুর—এই তিন দেশের মধ্যে বিভক্ত। ফলে ইন্দোনেশিয়া চাইলেও এককভাবে কোনো শুল্ক বা টোল আরোপ করতে পারবে না। আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল সংক্রান্ত জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশন (ইউএনসিএলওএস) অনুযায়ী এই রুটটি একটি উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে স্বীকৃত। এই আইনি ও কৌশলগত জটিলতার কারণে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের পথে বড় ধরনের বাধা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইন্দোনেশিয়ার এই প্রস্তাবের পরপরই সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া তাদের তীব্র অসম্মতি প্রকাশ করেছে। সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, মালাক্কা ও সিঙ্গাপুর প্রণালীর নৌপথ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকা একটি আন্তর্জাতিক অধিকার এবং এই প্রবেশাধিকার সীমিত করার কোনো প্রচেষ্টাকে তারা সমর্থন করবেন না। অন্যদিকে মালয়েশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী অ্যান্থনি লোকও অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। প্রতিবেশী দেশগুলোর এমন অনড় অবস্থানের ফলে ইন্দোনেশিয়ার এই পরিকল্পনাটি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
জেএ/অভি

