ক্রীড়া ডেস্ক: শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটের জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের (এলপিএল) ষষ্ঠ আসরের সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১০ জুলাই থেকে পর্দা উঠবে এই টুর্নামেন্টের এবং ৫ আগস্ট ফাইনাল ম্যাচের মধ্য দিয়ে আসরের সমাপ্তি ঘটবে। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, এবারের আসরটি দেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। ভেন্যুগুলোর তালিকায় রয়েছে কলম্বোর এসএসসি ও আরপিআইসিএস স্টেডিয়াম, পাল্লেকেলের পিআইসিএস এবং দাম্বুলার আরডিআইসিএস স্টেডিয়াম।
এবারের আসরে মোট পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দল শিরোপার লড়াইয়ে অংশ নেবে। দলগুলো হলো—কলম্বো ক্যাপস, দাম্বুল্লা সিক্সার্স, গল মার্ভেলস, ক্যান্ডি ফ্যালকনস এবং জাফনা। যদিও পূর্বে টুর্নামেন্টে ষষ্ঠ একটি দল যুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল, তবে বর্তমান কাঠামোতে পাঁচটি দল নিয়েই মাঠে গড়াবে খেলা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চুক্তির শর্তাবলি যথাযথভাবে পালন না করায় জাফনা কিংস এবং কলম্বো স্ট্রাইকার্সের পুরনো চুক্তিগুলো বাতিল করা হয়েছে। ফলে নতুন আঙ্গিকে ও নতুন ব্যবস্থাপনায় দলগুলো এই আসরে অংশগ্রহণ করছে।
বিশ্বের অন্যান্য বড় টি-টোয়েন্টি লিগগুলো যেখানে খেলোয়াড় কেনার জন্য নিলাম মডেল অনুসরণ করছে, সেখানে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ এবারও প্লেয়ার ড্রাফট পদ্ধতি বজায় রেখেছে। দেশি ও বিদেশি ক্রিকেটারদের সুষম বণ্টনের লক্ষ্যে একটি আকর্ষণীয় ড্রাফট আয়োজন করবে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড। আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের নিবন্ধনের জন্য ৪ মে পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। বোর্ড অনুমোদিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশি ক্রিকেটাররা এই সময়ের মধ্যে নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন।
টুর্নামেন্টের সার্বিক সফলতার জন্য শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড আইপিজি গ্রুপের সঙ্গে তাদের ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া এবারের আসরেও টুর্নামেন্ট ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সামান্থা দোদানওয়েলা। লিগ পরিচালনা ও মান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তার পূর্বের সফলতার ওপর বোর্ড পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছে। চার সপ্তাহব্যাপী এই ক্রিকেট মহাযজ্ঞকে কেন্দ্র করে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যে এরই মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে,
জুলাই ও আগস্টের এই উইন্ডোতে বিশ্বসেরা ক্রিকেটারদের উপস্থিতিতে লঙ্কা প্রিমিয়ার
লিগ ক্রিকেটে এক টানটান উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ড্রাফট
প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিটি দল তাদের শক্তি বৃদ্ধির সুযোগ পাবে, যা টুর্নামেন্টের
প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বাড়িয়ে তুলবে। লঙ্কান ক্রিকেটের উন্নতির পাশাপাশি বাণিজ্যিক
দিক থেকেও এই আসরটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেএ/অভি

