ক্রীড়া ডেস্ক: বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) কর্তৃক কোচের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। ইউরোপ এবং লাতিন আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাইপ্রোফাইল কোচরা বাংলাদেশের ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বাফুফে টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান কামরুল হাসান হিলটন নিশ্চিত করেছেন যে, জাতীয় দল, বয়সভিত্তিক দল এবং গোলরক্ষক কোচ পদের জন্য এখন পর্যন্ত তিন শতাধিক আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে কেবল জাতীয় দলের প্রধান কোচ হওয়ার দৌড়েই রয়েছেন অনেক নামী দামী ফুটবল ব্যক্তিত্ব। বয়সভিত্তিক দলের জন্য প্রায় ১০০ জন এবং গোলরক্ষক কোচের জন্য প্রায় ৫০ জন বিশেষজ্ঞ তাদের জীবনবৃত্তান্ত পাঠিয়েছেন।
আবেদনকারীদের তালিকায় বেশ কয়েকজন বিশ্বখ্যাত কোচের নাম রয়েছে, যা বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। জার্মানির সাবেক ফুটবলার এবং বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের অভিজ্ঞ কোচ বেনার্ড স্টর্ক আবেদনকারীদের মধ্যে অন্যতম। তার অধীনে হাঙ্গেরি দীর্ঘ ৪৪ বছর পর ইউরোতে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। এছাড়া ২০১৮ সালে মালদ্বীপকে সাফ চ্যাম্পিয়ন করা ক্রোয়েশিয়ান কোচ পিটার সেগার্ট এবং দক্ষিণ সুদান ও কোমোরোস জাতীয় দলের সাবেক প্রধান কোচ স্টেফানো কুসিনও আগ্রহ দেখিয়েছেন। ফ্রান্সের দিদিয়ের ওলে নিকোল এবং মন্টেনেগ্রো জাতীয় দলের সাবেক কোচ মিওড্রাগ রাধুলোভিচের মতো অভিজ্ঞদের নামও এই তালিকায় রয়েছে।
বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ভারতের সাবেক কোচ ইগর স্টিমাচের আবেদনটি বাফুফের নজরে এসেছে। ক্রোয়েশিয়া জাতীয় দলের সাবেক এই খেলোয়াড় ও কোচ ভারতকে সাফের শিরোপা জিতিয়েছিলেন। পাশাপাশি গাম্বিয়া ও মিয়ানমারের মতো দলকে কোচিং করানো জার্মানির অ্যান্তোনে হায় এবং সাবেক স্প্যানিশ কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরাও পুনরায় দায়িত্ব নিতে আগ্রহী। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই দীর্ঘ তালিকা যাচাই-বাছাই করে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা বা শর্টলিস্ট তৈরি করবেন।
প্রযুক্তিগত কমিটির মতে, হামজা চৌধুরী এবং শমিত সোমের মতো প্রবাসী তারকাদের বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলার সম্ভাবনা তৈরির কারণেই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ফুটবলের গুরুত্ব বেড়েছে। কোচরা এখন বাংলাদেশকে একটি সম্ভাবনাময় দল হিসেবে বিবেচনা করছেন এবং সে কারণেই এত বিপুল পরিমাণ আবেদন জমা পড়েছে। যদিও উচ্চমানের কোচ নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় বাজেটের প্রয়োজন হতে পারে, তবে বাফুফে কর্তৃপক্ষ এখনই অর্থায়ন নিয়ে চিন্তিত নয়। তাদের মূল লক্ষ্য হলো যোগ্য কাউকে খুঁজে বের করা, যার মাধ্যমে দেশের ফুটবলের একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শর্টলিস্ট চূড়ান্ত হওয়ার পর আবেদনকারীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হবে। বাফুফে মনে করছে, কোচদের এই বিপুল আগ্রহ প্রমাণ করে যে বিশ্ব ফুটবলে বাংলাদেশ এখন একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ও কোচদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কারিগরি দল গঠনের মাধ্যমে জাতীয় দলের মানোন্নয়ন করাই এখন বাফুফের প্রধান লক্ষ্য। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগে প্রার্থীদের প্রোফাইল এবং তাদের বিগত বছরের সাফল্যগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
জেএ/অভি

