শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডকে পদত্যাগের নির্দেশ

ক্রীড়া ডেস্ক: শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির অভিযোগে বর্তমান নির্বাহী কমিটিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার। বুধবার (২২ এপ্রিল) সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আহ্বান জানানো হয় যাতে একটি নতুন প্রশাসন গঠনের পথ সুগম হয়। শামি সিলভার নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিটিকে সরিয়ে স্বচ্ছ একটি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতের মাধ্যমে দেশের ক্রিকেটে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই এই কঠোর পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।

দীর্ঘদিন ধরেই শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি) বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সমস্যায় জর্জরিত, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে জাতীয় দলের মাঠের পারফরম্যান্সেও। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ঘরের মাঠের সুবিধা নিতে ব্যর্থ হয়ে সুপার এইট থেকে বিদায় নেওয়ার পর বোর্ড কর্মকর্তাদের ওপর জনরোষ চরমে পৌঁছায়। সাধারণ দর্শক ও ক্রিকেট বোদ্ধারা বর্তমান প্রশাসনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপে বাধ্য হয়েছে।

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের এই সংকট কেবল মাঠেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগে আইসিসি শ্রীলঙ্কার সদস্যপদ স্থগিত করেছিল। যদিও পরবর্তীতে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়, তবে অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা এখনো কাটেনি। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী সুনীল কুমারা গামাগে আইসিসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন এবং বর্তমান কমিটির পরিবর্তে একজন অনুমোদিত কর্মকর্তা বা অন্তর্বর্তী কমিটির হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করছেন।

বোর্ডের এই টালমাটাল অবস্থায় ক্রিকেটার ও কর্মকর্তাদের মধ্যে আস্থার ফাটল আরও স্পষ্ট হয়েছে। আইপিএলের জন্য অনাপত্তি সনদ (এনওসি) এবং ফিটনেস রিপোর্ট নিয়ে বোর্ড ও চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের মধ্যে বারবার মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। এর মাঝে প্রধান কোচের পদ থেকে সনাথ জয়াসুরিয়া সরে দাঁড়ানোর পর গ্যারি কার্স্টেনকে নিয়োগ দেওয়া হলেও প্রশাসনিক জটিলতায় দলের খেলায় কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। এই প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটিয়ে ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

সরকার মনে করছে, কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া লঙ্কান ক্রিকেটের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। জনরোষ এবং মাঠের ব্যর্থতার দায় নিয়ে বর্তমান কমিটিকে সরে দাঁড়াতে বলার পর শামি সিলভার নেতৃত্বাধীন কমিটির পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, তা নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার প্রতিক্রিয়া এবং নতুন অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের নিয়োগের ওপরই নির্ভর করছে লঙ্কান ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি।

জেএ/অভি