সানজিদা বারী: বর্তমান সময়ে যুদ্ধ পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তেই ঘটুক না কেন, তার আঘাত প্রায়ই পৌঁছে যায় এমন জায়গায়, যেখানে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র পড়ে না। বাজারের দাম, জ্বালানির সরবরাহ, খাদ্যের খরচ কিংবা প্রবাসী শ্রমিকের কর্মসংস্থান— সবকিছুতেই যুদ্ধের প্রতিধ্বনি ধরা পড়ে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে যে যুদ্ধ এখন দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে, তার সবচেয়ে দৃশ্যমান মূল্য অবশ্যই প্রাণহানি। কিন্তু যুদ্ধের আরেকটি নীরব দিকও আছে—অর্থনৈতিক অভিঘাতের দিক। এই অভিঘাত সব দেশে সমানভাবে পড়ে না; কেউ সুযোগ পায়, কেউ টিকে থাকে, আবার কেউ নীরবে চাপের মুখে পড়ে।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হাজার হাজার বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় কয়েকজন সামরিক নেতা ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও রয়েছেন। এই হামলায় শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেক বেসামরিক নাগরিকও রয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় সরকারি ভবন ও সামরিক অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস এর সদর দপ্তর। বিশ্লেষকদের মতে, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামোকে দুর্বল করে দেওয়া। এদিকে ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পারস্য উপসাগর এবং আশপাশের অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে তেহরান কঠোরপন্থি আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছে। প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে তার দায়িত্ব গ্রহণ অনেক বিশ্লেষকের মতে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান আপাতত সমঝোতার পথে নয়; বরং আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে। সংঘাতের মানবিক মূল্যও দ্রুত বাড়ছে। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ইরান, লেবানন ও ইসরায়েলে হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে তেল অবকাঠামো, বন্দর ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর হামলা বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় অন্তত ১৭৫ জন নিহত হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ও ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। নিহতদের বেশির ভাগই সম্ভবত শিশু। রোববার প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে একটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ওই বিদ্যালয়ে আঘাত হানে— যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সেই দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেখানে তিনি হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছিলেন।
এই সংঘাতের প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে অবস্থিত তাদের কূটনৈতিক মিশন থেকে অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। অন্যদিকে লেবাননে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘর্ষে ৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বৈরুতের বহু পরিবার স্কুল, গাড়ি কিংবা উপকূলের খোলা জায়গায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের এই নতুন পর্যায় ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলেছে। মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদন ও পরিবহন ঝুঁকির মুখে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৯ ডলারে পৌঁছেছে— যা কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশেষজ্ঞদের মতে, পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়। ফলে এই রুটে উত্তেজনা বা হামলার ঝুঁকি তৈরি হলেই তার সরাসরি প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারেও অস্থিরতা দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ডাও জোন্স সূচক প্রায় ৭২১ পয়েন্ট কমেছে এবং এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও নাসডাক সূচকেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। এশিয়া ও ইউরোপের বাজারেও একই ধরনের ধস দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, জ্বালানির দাম দীর্ঘ সময় ধরে বাড়তে থাকলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর করে দিতে পারে।
বাংলাদেশ যুদ্ধক্ষেত্র থেকে হাজার মাইল দূরে। কিন্তু অর্থনীতির মানচিত্রে সেই দূরত্ব অনেক কম। কারণ দেশের জ্বালানি আসে বিশ্ববাজারের অস্থির সরবরাহপথ ধরে, রেমিট্যান্স আসে মূলত মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার থেকে, আর নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের দাম নির্ধারিত হয় বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা, শিপিং ব্যয় এবং ডলারের বিনিময় হারের ওপর। ফলে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা, উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা কিংবা লোহিত সাগরে বাণিজ্যপথের অনিশ্চয়তা— এসব কেবল আন্তর্জাতিক খবর নয়; এগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবিকার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।
বাংলাদেশের জন্য কেন এটি বড় অর্থনৈতিক পরীক্ষা?
প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে যুদ্ধ চললেও এর অভিঘাত বাংলাদেশের সীমান্তে আটকে থাকে না। কারণ বাংলাদেশ বিশ্ববাজার থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো অর্থনীতি নয়। জ্বালানি আমদানি, তৈরি পোশাক রপ্তানি, খাদ্যপণ্য, সার, ভোজ্যতেল, গম, চিনি— সব কিছুর ক্ষেত্রেই দেশের অর্থনীতি আন্তর্জাতিক প্রবাহের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এই পরিস্থিতিতে চারটি বড় ঝুঁকি সামনে আসে। প্রথমত, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা। দ্বিতীয়ত, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ। তৃতীয়ত, খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যস্ফীতি এবং চতুর্থত, দীর্ঘমেয়াদে রেমিট্যান্স প্রবাহে সম্ভাব্য অস্থিরতা। অর্থনীতিবিদদের মতে, এ কারণেই মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতকে শুধু দূরের যুদ্ধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বরং এটি বাংলাদেশের জন্যও একটি নীতিগত পরীক্ষা। সরকার কত দ্রুত ঝুঁকি শনাক্ত করতে পারে, কতটা বাস্তবসম্মত প্রস্তুতি নিতে পারে এবং বাজারে আস্থা বজায় রাখতে পারে— এখন সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা: সবচেয়ে বড় তাৎক্ষণিক ঝুঁকি
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রভাবের মাধ্যম হলো জ্বালানি। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। একই সঙ্গে বৈশ্বিক এলএনজি পরিবহনেরও একটি বড় অংশ এই রুটের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই পথে যেকোনো বিঘ্ন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। এর সরাসরি অর্থ হলো— বাংলাদেশকে একই পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করতে আরও বেশি ডলার ব্যয় করতে হবে। এতে আমদানি ব্যয় বাড়বে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ তৈরি হবে এবং ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির ঝুঁকি দেখা দেবে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশ এখনও গ্যাসনির্ভর। কাতার ও ওমান থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে এলএনজি আমদানি করা হয়। পাশাপাশি স্পট মার্কেট থেকেও জ্বালানি কিনতে হয়। হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন তৈরি হলে এই সরবরাহ ব্যবস্থা অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা এবং সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয়ের ওপর।
বিদ্যুৎ, পরিবহন ও শিল্পে চাপ বাড়ার আশঙ্কা
জ্বালানি কোনো একক খাত নয়; এটি পুরো অর্থনীতির চালিকাশক্তি। তেল ও গ্যাসের দাম বাড়লে প্রথমে বেড়ে যায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়, এরপর পরিবহন খরচ এবং পরে তা ছড়িয়ে পড়ে কৃষি, শিল্প ও সেবাখাতে। বাস ও ট্রাকের ভাড়া বাড়তে পারে, শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে, এমনকি ছোট ব্যবসায়ীরাও বাড়তি ব্যয়ের চাপে পড়তে পারেন। বাংলাদেশে তেলভিত্তিক বিদ্যুতের একটি অংশ ভারতের ওপর নির্ভরশীল। আবার ভারতের জ্বালানি আমদানিও এই হরমুজ রুটের ওপর নির্ভরশীল। ফলে আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ চেইনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশেও বিদ্যুৎ ঘাটতি বা ব্যয়বৃদ্ধির চাপ তৈরি হতে পারে। সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো— জ্বালানি সংকট খুব দ্রুত শিল্প উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে, রপ্তানি প্রতিযোগিতা দুর্বল করতে পারে এবং ব্যবসায়িক আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই বিকল্প উৎস, কৌশলগত মজুত বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সাশ্রয় নীতি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
খাদ্যবাজারে ‘চেইন রিঅ্যাকশন’
জ্বালানির দাম বাড়ার সবচেয়ে স্পষ্ট সামাজিক প্রভাব পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। কারণ জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি কৃষি উৎপাদন, সেচ, পরিবহন, সংরক্ষণ এবং খুচরা বাজার— সব ক্ষেত্রেই খরচ বাড়িয়ে দেয়। ফলে চাল, ডাল, সবজি, ভোজ্যতেল, গম ও চিনির মতো পণ্যের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
বাংলাদেশ ভোজ্যতেল, গম ও চিনির ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভর। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে স্থানীয় বাজারেও তার প্রভাব পড়ে। এর সঙ্গে যোগ হয় শিপিং খরচ, বিমা ব্যয় এবং ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির চাপ। এর পাশাপাশি সার সরবরাহও একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। কাতার ও সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সার আমদানি করে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়লে সার সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে, যা কৃষি উৎপাদন এবং দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যনিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বাণিজ্যপথ ও রপ্তানিতে নতুন সংকট
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক দিক হলো বাণিজ্যপথের অনিশ্চয়তা। যদি হরমুজ প্রণালি বা লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ রুট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, তাহলে জাহাজ কোম্পানিগুলো সাধারণত ‘ওয়ার রিস্ক সারচার্জ’ আরোপ করে। এতে পণ্য পরিবহনের খরচ দ্রুত বেড়ে যায়। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এই খাত নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে অর্ডার সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেলে বা জাহাজ বিলম্বিত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যেতে পারে।
রেমিট্যান্স: তাৎক্ষণিক ধাক্কা কম, দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি বেশি
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস প্রবাসী আয়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। স্বল্পমেয়াদে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধাক্কা নাও আসতে পারে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে নতুন কর্মী নিয়োগ কমে যেতে পারে, শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান সংকুচিত হতে পারে। অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধ বা রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় বহু শ্রমিক বাধ্য হয়ে দেশে ফিরেছেন। এমন পরিস্থিতি আবার তৈরি হলে তা শুধু রেমিট্যান্স নয়, দেশের শ্রমবাজারেও বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
বাংলাদেশের করণীয়
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি হলো আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়া। জ্বালানি আমদানির বিকল্প উৎস খোঁজা, কৌশলগত মজুদ বৃদ্ধি, খাদ্য ও সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা, রপ্তানিকারকদের সহায়তা দেওয়া এবং রেমিট্যান্সের বাজার বহুমুখীকরণ— এসব বিষয় এখনই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বাংলাদেশের জন্য সামরিক সংকট নয় কিন্তু এটি একটি বড় অর্থনৈতিক সতর্কবার্তা। জ্বালানি, খাদ্য, রেমিট্যান্স, রপ্তানি ও রিজার্ভ— সবখানেই এই সংঘাতের প্রভাব পৌঁছাতে পারে। যুদ্ধ যদি স্বল্পস্থায়ী হয় তবে ধাক্কা সীমিত থাকতে পারে কিন্তু যদি এটি দীর্ঘায়িত হয় এবং জ্বালানি সরবরাহে বড় বিঘ্ন ঘটায়, তাহলে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য পরিস্থিতি দ্রুত কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাই এ মুহূর্তে সবচেয়ে প্রয়োজন আতঙ্ক নয়, প্রস্তুতি কারণ বৈশ্বিক সংকটের সময়ে যে দেশ আগেভাগে ঝুঁকি শনাক্ত করতে পারে এবং সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে পারে, সেই দেশই তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতির মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ডক্টরাল ফেলো, ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় শিকাগো, যুক্তরাষ্ট্র

