শেখ সাদী খান, ঢাকা: আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) ‘লস্কর’ পদ থেকে মো. তৌহিদুল ইসলামকে ‘ইনল্যান্ড মাস্টার’ (তৃতীয় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগ দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই নিয়োগে তার কোনো প্রকার যোগ্যতা ছিল না এবং পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুক তার বিশেষ প্রভাব খাটিয়ে আদালতের রায়কে উপেক্ষা করে তড়িঘড়ি করে এই নিয়োগ সম্পন্ন করেছেন। এ ছাড়া, তৌহিদুল ইসলাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে যে অভিজ্ঞতা সনদ জমা দিয়েছেন সেটি ভুয়া ও জাল বলেও জানা গেছে।
চবক পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুক কোনো প্রকার নিয়ম-নীতি না মেনে এবং আদালতের সুস্পষ্ট রায় উপেক্ষা করে তৌহিদুল ইসলামকে গত ৪ মার্চ ‘ইনল্যান্ড মাস্টার’ পদে সরাসরি নিয়োগপত্র পাঠান। জানা যায়, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে এর আগে ২০২২ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে পদ খালি থাকলেও তৌহিদুল ইসলামকে পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হয়নি।
২০২২ সালের ২৯ আগস্ট বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান এবং বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ মন্তব্য করেন, ‘ইনল্যান্ড মাস্টার’ পদের জন্য ট্রেড টেস্ট, লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষার জন্য বিবাদীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে একটি বিধিনিষেধ জারি করা হোক। একইসঙ্গে আদালতের নির্দেশে চবক প্রবিধান মালা-১৯৯১-এর ৩৬৯ ধারা অনুসারে তৃতীয় শ্রেণির অভ্যন্তরীণ মাস্টার পদটি পূরণ করার নির্দেশ না দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। আদেশে আরও বলা হয়, আদেশ প্রাপ্তির তারিখ থেকে ৬ (ছয়) মাসের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (তৃতীয় শ্রেণির) পদ খালি রাখা হবে। পিটিশনে উল্লেখ করা হয়, মাস্টার মো. তৌহিদুল ইসলামের সরাসরি নিয়োগ প্রক্রিয়া আইনের পরিপন্থি।
অন্যদিকে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বঞ্চিত হয়েছেন মো. মামুন উর রশিদ (লস্কর)। তিনি ২০১৯ সালে ‘ইনল্যান্ড মাস্টার’ পদের জন্য আদালতে রিট পিটিশন মামলা করেন এবং আদালত ২০২০ সালের ২৫ জানুয়ারি তার পক্ষে রায় দেন। আদালতের নির্দেশনায় ছিল— মো. মামুন উর রশিদকে ২০১৯ সালের ২ অক্টোবর সাময়িকভাবে বরখাস্ত কেন অবৈধ হবে না; তৃতীয় শ্রেণির ‘ইনল্যান্ড মাস্টার’ পদে সরাসরি নিয়োগ কেন মুক্তিযোদ্ধা কোটায় দেওয়া হবে না; তথ্য অধিকার আইনে বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে করা আবেদনের প্রেক্ষিতে তথ্য প্রদানের নির্দেশনা এবং ২য় শ্রেণির ইনল্যান্ড মাস্টার পদে ট্রেনিং ও পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি চেয়ে তার আবেদন এক সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করারও নির্দেশনা দেওয়া হয় আদালত থেকে।
বন্দরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জাতীয় অর্থনীতিকে বলেন, ‘মো. মামুন অর রশিদ (লস্কর) বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হওয়ায় দীর্ঘ কয়েক বছর অবিচারের শিকার হচ্ছেন। এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হওয়াটাই বঞ্চিত হওয়ার বড় কারণ।
এদিকে বন্দরের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, তৃতীয় শ্রেণির ‘ইনল্যান্ড মাস্টার’ পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কোনো কাগজপত্রই তৌহিদুল ইসলামের নেই। তিনি ২০১৩ সালের ২২ অক্টোবর লস্কর পদে যোগ দেন। এবং ২০১৪ সালের ৩ এপ্রিল এক আদেশের বলে ইঞ্জিন ড্রাইভারের অধীনে ক্লিনারের কাজ পান। সুতরাং ‘অভ্যন্তরীণ জাহাজ লোক নিয়োগ, পরীক্ষায় অংশ্রগ্রহণ ও সার্টিফিকেট প্রদান বিধিমালা ২০০১’ অনুযায়ী তৃতীয় শ্রেণির ‘ইনল্যান্ড মাস্টার’ যোগ্যতা সনদ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষমতা বা এখতিয়ার তার নেই।
বন্দরের একাধিক কর্মকর্তা আরও বলেন, তৌহিদুল ইসলামকে সরাসরি নিয়োগে ব্যক্তিগত অনৈতিক সুবিধা নিয়ে যুক্ত ছিলেন চবক পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুক, চিফ পারসোনেল অফিসার মো. নাসির উদ্দিন, হারবার মাস্টার জহিরুল ইসলাম এবং পারসোনাল অফিসার (নিয়োগ) ইরফান খান। তৌহিদুল ইসলাম রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত এবং বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পান না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর এক লিখিত অভিযোগে মো. তৌহিদুল ইসলামের জাল ও বানোয়াট সনদের ভিত্তিতে অর্জিত তৃতীয় শ্রেণির ‘ইনল্যান্ড মাস্টার’ যোগ্যতা সনদসহ তৃতীয়, দ্বিতীয় ও প্রথম শ্রেণির সনদ বাতিল করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছিলেন ভুক্তভোগী মামুন-উর রশিদ।
এ ছাড়া গত বছরের ১৬ নভেম্বর তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ মোতাবেক মো. তৌহিদুল ইসলামের চাকরির বিধিমালা সংক্রান্ত যেসব তথ্য চাওয়া হয়েছিল, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন, যা তার যোগ্যতা সনদ অর্জনের প্রক্রিয়াকে আইন বহির্ভূত প্রমাণ করে।
এদিকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে মো. তৌহিদুল ইসলামকে নিয়োগের ব্যাপারে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুকের সঙ্গে একাধিকবার ফোন ও

