ঈদের পরেও চড়া  মুরগির দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদের পরও রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোয় মুরগির দাম আকাশছোঁয়া। এখনো ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজিতে।  বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে সোনালী, দেশি মুরগি কিনতেও। এসব মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ থেকে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকায়। গতকাল শুক্রবার মোহাম্মদাপুর সাদেক খান কাঁচাবাজার, টাউনহল কাঁচাবাজার ও কাওরানবাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

বিক্রেতারা জানান, ঈদের ছুটি লম্বা হওয়ায় রাজধানী এখনো বেশ ফাঁকা। ছুটির আমেজ কাটেনি। তাই সরবরাহ কম। আগামীকাল রোববার থেকে যোগাযোগ্য ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে আশা করা যায়। তখন সরবরাহ বাড়বে। এতে মুরগির দাম কমে আসবে। তবে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে গরু-খাসির মাংস।

ঢাকার বাজারে ঈদের এক দিন আগে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হয় ৩৪০ থেকে ৩৭০ টাকায়। তবে ঈদের তৃতীয় দিন দাম কেজিতে  আরও ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে যায়। গতকাল রকমভেদে প্রতি কেজি সোনালি কিনতে লাগে ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা।

এদিন রাজধানীতে প্রতি কেজি ব্রয়লার ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হয়। ঈদের আগের দিন এর দাম ওঠে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকায়। এরপর  দাম কমলেও রোজার আগের তুলনায় অনেক বেশি। রোজা শুরুর আগে এক কেজি ব্রয়লার পাওয়া যেত ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। এছাড়া ঈদের আগের প্রতি কেজি দেশী মুরগি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন কিনতে হচ্ছে ৭০০ টাকায়।

অন্যদিকে গরুর মাংস মানভেদে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আর খাসির মাংসের কেজি ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা।

সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, আলু (ডায়মন্ড) কেজি প্রতি ২৫ , লাল আলু ৩০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে প্রতি কেজি উচ্ছে ৮০ টাকায় বিক্রি হলেও করলার দাম ছিল ১০০ টাকা। এছাড়া একই পরিমাণ ঢেঁড়স ৮০, টমেটো ৩০, পেঁয়াজ ৪৫, রসুন (চায়না) ২৪০, দেশি (নতুন) ১০০, শসা ১৪০ থেকে ১৬০, শিম ৬০ টাকায় বিক্রি হয়। আর এক হালি এলাচি লেবুর দাম ছিল ৮০ টাকা, কলম্ব লেবু ১০০ ও কাগজি লেবু ৮০ টাকা।

এদিকে সরবরাহ কম থাকলেও মাছের দামে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। ব্যবসায়ীরা এর কারণ হিসেবে বলেন, চাহিদা কম। তাই দাম আগের মতোই রয়েছে।

গতকাল কেজিপ্রতি রুই বিক্রি হয় ৩৫০ থেকে ৪২০, কাতলা ৩২০ থেকে ৩৮০, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৮০, পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২৫০ এবং শিং–মাগুর ৫৫০ থেকে ৭৫০ টাকায়। চাষ ও দেশি কইয়ের দাম ছিল  ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা। বোয়াল,  চিতলের মতো বড় মাছের কেজি ছিল ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা।

অন্যান্য মাছের মধ্যে প্রতি কেজি ছোট চিংড়ি ৩৫০, কাঁচকি ৫০০, মলা ৩৫০, পাবদা আকারভেদে ৩০০ থেকে ৬০০, গলদা চিংড়ি আকারভেদে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

অন্যদিকে, সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বলছে, রাজধানীর খুচরা বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে অন্তত ১০টি পণ্যের দাম কমেছে। এ তালিকায় আছে চাল, আটা, ডাল।

টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, মোটা চালের (স্বর্ণা/চায়না ইরি) দাম গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি মোটা চাল ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কমেছে আটার দামও। প্যাকেটজাত আটার দাম কেজিতে ৫ টাকা কমে এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা ছিল। তবে সরু চাল (নাজিরশাইল বা মিনিকেট) এবং মাঝারি মানের পাইজাম চালের দাম রয়েছে আগের মতোই।

টিসিবি বলছে, ডালের বাজারে দেখা গেছে মিশ্র প্রবণতা। ছোট দানার মসুর ডালের দাম ৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমলেও বড় দানার দাম গত সপ্তাহের তুলনায় ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে বড় দানার মসুর প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম এক মাসের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকলেও গত সাত দিনে নতুন করে আর বাড়েনি।