সংসদে বিসিবি নিয়ে কঠোর বার্তা আমিনুল হকের

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) ঘিরে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও দলীয় প্রভাবের অভিযোগ নিয়ে সংসদে সরব হয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। রোববার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিসিবি ইস্যুই উঠে আসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, অতীতের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজ সংসদে দেওয়া বক্তব্যে আমিনুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের যে অর্থ কিংবা জনবল, তারা বিগত সময়ে যে ভোটের অধিকার হরণ করতে একটি গ্রুপকে সহযোগিতার মাধ্যমে এ ধরনের অপকর্ম করেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরে এই বোর্ডের যাঁরা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, সেই সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ইনশা আল্লাহ। পাশাপাশি আমাদের সবশেষ ক্রিকেট বোর্ডের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব নেওয়ার কিছু ইস্যু আমার সামনে পরিলক্ষিত হয়েছে। আমাদের যে দুদকের মহাপরিচালক রয়েছেন, তাঁর কাছে আহ্বান করব এই বিষয়ে কোনো তদন্ত বা কিছু থাকলে যেন আমাদের জানান এবং সেগুলো যেন জাতির সামনে উপস্থাপন করা হয়।’

একই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘বিগত সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের যে অর্থ কিংবা জনবল ছিল, তা ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট গ্রুপকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং অপকর্ম করা হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এই বোর্ডের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বিসিবির কর্মকর্তাদের সম্পদের বিষয়েও সন্দেহের কথা তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ‘আমাদের সবশেষ ক্রিকেট বোর্ডের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব নেওয়ার কিছু ইস্যু আমার সামনে পরিলক্ষিত হয়েছে। দুদক মহাপরিচালকের কাছে আমার আহ্বান, এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত বা তথ্য থাকলে আমাদের জানান। দুর্নীতিবাজদের আমলনামা জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।’

শুধু বিসিবি নয়, পুরো ক্রীড়াঙ্গনের অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আপনারা সকলেই জানেন যে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় থেকে ২০০৮ সাল থেকে ক্রিকেট বোর্ডসহ দলীয়করণ এবং রাজনীতিকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে যে স্থবিরতা নিয়ে এসেছিল এবং বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন যেভাবে ধ্বংসের পথে চলে গেছে, সেই ধ্বংসস্তূপ ক্রীড়াঙ্গনকে নতুনভাবে দলীয়করণমুক্ত, রাজনীতিকরণমুক্ত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে চলেছি। ২০০৮ সাল থেকে যারা এই দলীয় সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে যারা অবৈধ নিয়োগ হয়েছে, সে সব আমরা দ্রুতই তদন্ত কমিটি করে কারা জড়িত ছিল, ইনশা আল্লাহ জাতির সামনে নিয়ে আসব।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০০৮ সালের পর থেকে যারা দলীয় পরিচয়ে অবৈধভাবে বিসিবিসহ বিভিন্ন সংস্থায় নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের চিহ্নিত করতে দ্রুতই তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।’

জাতীয় দলের সাবেক গোলরক্ষক আমিনুল হক দেশের ইতিহাসে প্রথম ক্রীড়াবিদ হিসেবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি ক্রীড়াঙ্গনে শুদ্ধি অভিযানের ইঙ্গিত দিচ্ছেন। এর আগে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন তিনি।