আয় বন্ধ, দুশ্চিন্তায় ক্রিকেটার-কবে শুরু লিগ?

দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে অনিশ্চয়তা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তৈরি হয়েছে এক ধরনের অচলাবস্থা! যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ক্রিকেটারদের জীবিকা ও মানসিক অবস্থার ওপর। প্রতি বছর ক্রিকেটারদের আয়ের বড় অংশ আসে ঢাকা লিগ থেকে, কিন্তু এবার সেই লিগ নির্ধারিত সময়ে শুরু না হওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে ক্রিকেটারদের স্বার্থরক্ষাকারী সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (কোয়াব) আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। তারা চিঠি দিয়েছে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং সিসিডিএম চেয়ারম্যান আদনান রহমান দীপনের কাছে, যেখানে দ্রুত ঘরোয়া লিগগুলো চালুর দাবি জানানো হয়েছে। চিঠিতে ঘরোয়া ক্রিকেটের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘চরম হতাশাজনক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তৃতীয় বিভাগ লিগ শুরুর কোনো প্রস্তুতি নেই, দ্বিতীয় বিভাগে অনেক ক্লাব অংশ নেয়নি এবং ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ নিয়েও দৃশ্যমান কোনো পরিকল্পনা নেই।

এই অনিশ্চয়তা শুধু পেশাগত দিকেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং অনেক ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত জীবনেও সংকট তৈরি করেছে। কোয়াব জানিয়েছে, লিগ বন্ধ থাকায় বহু ক্রিকেটার আর্থিক সংকটে পড়েছেন, কেউ কেউ পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। ফলে দ্রুত লিগ চালু করা এখন কেবল ক্রীড়া ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়, বরং মানবিক প্রয়োজনেও পরিণত হয়েছে।

ঘরোয়া ক্রিকেটে এই অচলাবস্থার পেছনে আরেকটি বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে প্রশাসনিক জটিলতা ও বিতর্কিত নির্বাচন ইস্যু। গত বছরের ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নির্বাচনে অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগ তুলে বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠকরা প্রশ্ন তুলেছেন। এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান।

তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ২৫ থেকে ২৬ জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে এবং ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর মধ্যে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম এবং সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও তদন্তের স্বার্থে কমিটির পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হচ্ছে না, তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

এদিকে বিসিবির বর্তমান নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কও থামছে না। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল ও তার সমমনা সংগঠকদের একটি অংশ বর্তমান বোর্ডকে বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে বিসিবির সহসভাপতি ফারুক আহমেদ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, নির্বাচনে প্রতিপক্ষ না থাকায় অনিয়মের সুযোগই ছিল না।