বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে ভোট আজ
বগুড়া ও শেরপুর প্রতিনিধি: বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচন এবং শেরপুর-৩ আসনে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। নির্বাচন সামনে রেখে আসনগুলোয় ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলোয় পৌঁছে গেছে ভোটগ্রহণের সরঞ্জামাদি। গতকাল বুধবার বগুড়া সেন্ট্রাল স্কুলমাঠ থেকে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ধাপে ধাপে পাঠানো হয় ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স, অমোচনীয় কালিসহ অন্যান্য সামগ্রী। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এসব সরঞ্জাম গ্রহণ করেছেন।

এ উপনির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তিন প্রার্থী। তারা হলেন- বিএনপির রেজাউল করিম বাদশা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত আবিদুর রহমান সোহেল এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির আল আমিন তালুকদার।

সহকারী রিটার্নিং অফিসার জাহিদ ইবনে আবুল ফজল বলেন, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। এই আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩। ভোটগ্রহণ হবে ১৫০ কেন্দ্রে। এ ছাড়া ডাকযোগে ভোট দেওয়ার জন্য একটি পৃথক কেন্দ্র রাখা হয়েছে। এখানে নিবন্ধন রয়েছে ৩ হাজার ৭৩৬ ভোটারের। নির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে থাকবেন আনসার, পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির ৮ প্লাটুন সদস্য, সেনাবাহিনী এবং ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুই আসনে জয়ী হয়ে ঢাকা-১৭ আসনটি রেখে বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দেন। ফলে আসনটি শূন্য হয়। 

অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল। পরে ৯ এপ্রিল এই আসনে ভোটগ্রহণ হবে জানিয়ে নতুন তফসিল ঘোষণা করা হয়। 

এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মরহুম নুরুজ্জামান বাদলের সহোদর ছোট ভাই মাসুদুর রহমান এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) মনোনীত মিজানুর রহমান। 

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া র‌্যাবের ১০টি টিম মাঠে আছে এবং রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত চারটি টিম। সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনে আছে  পুলিশের ২৬টি মোবাইল টিম। নির্বাচনি মাঠে শৃঙ্খলা রক্ষায় ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আছেন ১৮ জন পর্যবেক্ষক। দুই উপজেলায় দায়িত্ব পালন করবেন দুজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ইলেকশন ইনকোয়ারি কমিটির তিনজন যুগ্ম জেলা জজ। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর কয়েকটি টিম মাঠে থাকবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদারে পাঁচ থেকে ছয়জন পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ১২ জন করে আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন থাকবে।

দুই উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনের ১২৮ ভোটকেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭। এর মধ্যে ২৮টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বগুড়া ও শেরপুরের আসনের যেকোনো ভোটকেন্দ্রে আচরণবিধি লঙ্ঘন বা অনিয়ম দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।