নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: আহমেদীয়া ফাইন্যান্স অ্যান্ড কমার্স মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মনির আহম্মেদ ও তার স্ত্রী সখিনা আহম্মেদের নামে থাকা ছয়টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করেছে আদালত। সিআইডি পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন। এ দিন সিআইডির পরিদর্শক বিল্লাল হোসেন এসব ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, মনির আহম্মেদ আহমেদীয়া ফাইন্যান্স অ্যান্ড কমার্স মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের নামে সমিতির সদস্য এবং ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ নিরীহ লোকের কাছ থেকে অধিক মুনাফা প্রদান করার কথা বলে টাকা নিয়ে ৫৮ কোটি ৩৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। এসব অর্থ দিয়ে ফ্ল্যাট, জমিক্রয় এবং মানি লন্ডারিংসহ সম্পৃক্ত অপরাধের মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ার বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের নামে থাকা ছয়টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ থাকা একান্ত প্রয়োজন বলে আবেদনে বলা হয়।
গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ দিয়ে তিনি নিজের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় করেন এমডি মনির। এ ঘটনায় মনিরসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের নভেম্বরে কাফরুল থানায় ‘মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে’ একটি মামলা করা হয়।
তদন্ত চলাকালে সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট ইব্রাহিম মৌজায় ৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ জমির পর নির্মিত ‘ইউরো স্টার টাওয়ার’ নামের বাণিজ্যিক ভবনের সন্ধান পায়। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ, মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা গত ১৬ জুলাই ভবনটি ক্রোকের আদেশ দেন। গ্রাহকের আমানতের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা ওই মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে বলেও জানিয়েছে সিআইডি।
জানা গেছে, অভিযুক্ত মনির আহম্মেদ (৫৩), ২০০৫ সালে আহমেদীয়া বহুমুখী সমবায় সমিতি নামে ঢাকা জেলা সমবায় সমিতি থেকে নিবন্ধন নেন। ২০০৬ সালে নাম পরিবর্তন করে আহমেদীয়া ফাইন্যান্স অ্যান্ড কমার্স মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামে পুনঃনিবন্ধন নেন। প্রতিষ্ঠাকালীন সমিতির মূল উদ্দেশ্য ছিল সদস্যদের কাছ থেকে সঞ্চয় ও শেয়ার আমানত সংগ্রহ করে তা থেকে সদস্যদের ঋণ প্রদান এবং তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করা। নিয়ম অনুযায়ী সমিতিটি শুধু সদস্যদের মধ্যেই ঋণ ও সঞ্চয় কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা থাকলেও অভিযুক্ত মনির আহমেদ বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন মেয়াদে আমানত সংগ্রহ শুরু করেন। মিরপুর, ক্যান্টনমেন্ট, বনানী, মহাখালী, কাফরুলসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার ১ হাজার থেকে এক ১০০ জনের কাছ থেকে অধিক মুনাফা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ৫৮ কোটি ৩৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন।
গত ১২ আগস্ট গ্রাহকের এই ‘আমানত আত্মসাতের’ অভিযোগে মনির আহম্মেদের মালিকানাধীন কাফরুল থানা এলাকায় অবস্থিত ‘ইউরো স্টার টাওয়ার’ নামক ১০তলা বাণিজ্যিক ভবন ক্রোক করেছে সিআইডি। ভবনটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা।


