যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তায় ডিএসইর প্রধান সূচক কমল ৪১ পয়েন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের পর দেশের পুঁজিবাজার গতকাল সোমবার আবারও চাপের মুখে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনা ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি না আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা ও উদ্বেগ বাড়ে। এর প্রভাবে বাজারে বিক্রয়চাপ বেড়ে সূচক ও লেনদেন উভয়ই নিম্নমুখী হয়। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও এ দিনে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪১ দশমিক ০৩ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৭ শতাংশ কমে ৫ হাজার ২৩০ দশমিক ৩৬ পয়েন্টে নেমে এসেছে। আগের কার্যদিবসে সূচক ছিল ৫ হাজার ২৭১ দশমিক ৪০ পয়েন্ট। একই সঙ্গে ডিএসইএস সূচক ৩ দশমিক ০৮ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ২৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে ডিএস-৩০ সূচক ২১ দশমিক ৩০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ০৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯৮১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দিনের শুরুতে সূচক কিছুটা ইতিবাচক ছিল। তবে সেই গতি দ্রুত হারায়। মধ্যভাগ থেকে বাজারে বিক্রয়চাপ বাড়তে থাকে। বড় মূলধনী শেয়ারগুলোতে চাপ আরও তীব্র হয়। শেষ পর্যন্ত সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতায় লেনদেন শেষ হয়।

সূচকের পাশাপাশি বাজারে মোট লেনদেনও কমেছে। এ দিন ডিএসইতে লেনদেন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৯৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন ছিল প্রায় ৮৩৭ কোটি ১০ লাখ টাকা। অর্থাৎ লেনদেন কমেছে প্রায় ৪৪ কোটি টাকার।

দিনজুড়ে মোট ৩৯০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১২৩টির দর বেড়েছে, ২১৩টির কমেছে এবং ৫৪টি অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে দরপতনের সংখ্যাই বাজারে চাপের ইঙ্গিত দিয়েছে।

খাতভিত্তিক লেনদেনে প্রকৌশল খাত সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল, যেখানে মোট লেনদেনের ১৬ দশমিক ৬০ শতাংশ হয়েছে। এরপর ওষুধ ও রসায়ন খাত ১১ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং সাধারণ বীমা খাত ১১ দশমিক ১০ শতাংশ লেনদেন করে। খাতভিত্তিক পারফরম্যান্সে মিউচুয়াল ফান্ড খাত সামান্য ইতিবাচক থাকলেও ব্যাংক ও জীবন বীমা খাতে উল্লেখযোগ্য দরপতন দেখা গেছে।

লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে দরপতনের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক। কোম্পানিটির শেয়ার দর ১ টাকা ৮০ পয়সা বা ৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ কমেছে। দরপতনের এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল এপেক্স ট্যানারি লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ কমেছে। আর তৃতীয় স্থানে থাকা কেডিএস এক্সেসরিজ লিমিটেডের শেয়ার দর ৪ দশমিক ২৭ শতাংশ কমেছে। এছাড়াও ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো সেনা ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, সেনা ইন্স্যুরেন্স, পিপলস ইন্স্যুরেন্স, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, ইস্টার্ন ইন্সুরেন্স, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ ল্যাম্পস পিএলসি এবং এশিয়া ইন্স্যুরেন্স পিএলসি।

লেনদেনের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এ দিন ডিএসইতে কোম্পানিটির ৩৫ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর ফলে কোম্পানিটি লেনদেনের তালিকায় প্রথম স্থান দখল করে। এদিন লেনদেনের এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল একমি পেস্টিসাইড লিমিটেড। কোম্পানিটির ২৭ কোটি ১৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর ২৪ কোটি ৯০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করে তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে সিটি ব্যাংক পিএলসি।

এছাড়াও ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ ১০ থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো মনোস্পুল বাংলাদেশ পিএলসি, কেডিএস এক্সেসরিজ, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, তৌফিকা ফুডস অ্যান্ড লাভেলো আইসক্রিম, ডমিনেজ স্টিল, ওরিয়ন ইনফিউশন লিমিটেড ও পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স পিএলসি।