ইস্টার্ন রিফাইনারি বন্ধে উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে এত দিন মূলত মধ্যপ্রাচ্য থেকে আনা অপরিশোধিত তেলই পরিশোধন করা হতো। পরিশোধন করে দেশের মোট বাৎসরিক জ্বালানি তেলের চাহিদার ৫ ভাগের ১ ভাগ সরবরাহ করে। যার পরিমাণ বছরে প্রায় ১৫ লাখ মে. টন। বছরের শুরুতে নেওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতি মাসে সাধারণত ১/২টি কার্গো আমদানিপূর্বক ইআরএল-এর উৎপাদন অব্যাহত রাখে। দেশের চাহিদা অনুযায়ী অবশিষ্ট জ্বালানি তেল পরিশোধিত আকারে আমদানি করা হয়।

এখানে উল্লেখ্য যে, দেশে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ব্যবহৃত ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের একটি তুলনামূলক চিত্র নিম্নরূপ। যা থেকে মোট চাহিদার কত শতাংশ ইআরএল থেকে পাওয়া যায় তার সহজেই অনুমেয়।

ডিজেল: চাহিদা সর্বোচ্চ (৪৭,৪২,০০০.০০), ইআরএল হতে প্রাপ্তি (৭,৩২,২৩০.০০), শতকরা হার (১৫.৪৪%)।

অকটেন: চাহিদা সর্বোচ্চ (৪,৩৭,০০০,০০), ইআরএল হতে প্রাপ্তি (), শতকরা হার (০.০০%)।

পেট্রোল: চাহিদা সর্বোচ্চ (৪,৮৯,০০০.০০), ইআরএল হতে প্রাপ্তি (৫৮,৩০৯.০০), শতকরা হার (১১.৯২%)।

এর বাইরে ফার্নেস অয়েল, কেরোসিন ও বিটুমিনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উপজাত হিসেবে ইআরএল থেকে পাওয়া যায়।

উপর্যুক্ত ছক থেকে প্রতীয়মান হয় যে, দেশের মূল জ্বালানি তেল ডিজেলের মাত্র ১৫% এবং পেট্রোলের ১১% ইআরএল থেকে পাওয়া যায়। বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেল আমদানি ব্যাহত হওয়ায় সরকার পর্যাপ্ত পরিমাণ পরিশোধিত তেল আমদানি করে একদিকে ইআরএল থেকে প্রাপ্ত তেলের ঘাটতি যথাযথভাবে পূরণ করছে এবং অন্যদিকে সীমিত পর্যায়ে ইআরএল-এর উৎপাদনও অব্যাহত রেখেছে।

এ বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় মার্চ (২ লক্ষ মে. টন) এবং এপ্রিলের (১ লক্ষ মে. টন) নির্ধারিত ৩ লক্ষ মে. টন ক্রড অয়েল আমদানির যে শিডিউল সে অনুযায়ী ক্রুড অয়েল আনা সম্ভব হয়নি। শিডিউল অনুযায়ী ক্রুড অয়েল আমদানির বর্তমান চিত্র নিম্নরূপ:

মার্চ ২০২৬ মাসের প্রথম পার্সেল এরাবিয়ান লাইট ক্রুডের (এএলসি) ১ লক্ষ মে. টনের কার্গোটি (MT Nordic Pollux-IMO No-9239848) লোড সম্পন্ন হলেও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় হরমুজ অতিক্রম করতে পারেনি। বর্তমানে রাস্তানুরা বন্দরে অবস্থান করছে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

মার্চ ২০২৬ এর দ্বিতীয় পার্সেলটি (মারবান) লোডিংয়ের জন্য নির্ধারিত পোর্ট হরমুজ প্রণালীর অভ্যন্তরে থাকার কারণে (১ লক্ষ মে.টন) ইতোমধ্যে সরবরাহকারী কর্তৃক ফোর্স ম্যাজিউর করা হয়েছে।

এপ্রিল ২০২৬-এ নির্ধারিত (১ লক্ষ মে.টন) ১টি এরাবিয়ান লাইট ক্রুডের কার্গো ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে লোডিং সম্পন্ন করে ২/৩ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে বিকল্প বন্দর ব্যবহার করে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে মর্মে আশা করা যাচ্ছে।

মে ২০২৬-এ ১টি (১ লক্ষ মে.টন) মারবান কার্গোর পাশাপাশি সরবরাহ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ১টি (১ লক্ষ মে.টন) এএলসি কার্গোর জন্য সৌদি আরামকোকে অনুরোধ করা হয়েছে। যা সরবরাহকারীর সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষমান রয়েছে।

এছাড়া, জরুরি চাহিদা পূরণে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১ লক্ষ মে. টন ক্রুড অয়েল আমদানির জন্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন গ্রহণপূর্বক কার্যাদেশ জারি করা হয়েছে।

মার্চ ২০২৬ শিডিউলের ক্রুড অয়েল পার্সেল মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে যথাসময়ে পৌঁছাতে না পারায় বর্তমানে ইআরএল লো-ফিডে চালু রাখা হয়েছে।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, সরকার শিডিউল অনুযায়ী পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি নিশ্চিত করছে এবং নিয়মিত আমদানির পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

দেশের একমাত্র রিফাইনারি ইআরএল জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ভূমিকা রাখে। তবে চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ক্রুড অয়েল স্বল্পতার কারণে চাহিদা অনুযায়ী পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি নিশ্চিত করা হচ্ছে বিধায় লো-ফিডে ইআরএল চালু থাকলেও এর কোন বিরূপ প্রভাব সরবরাহ চ্যানেলে পড়বে না এবং এ বিষয়ে উদ্বিঘ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। উল্লখ্যে, ইআরএল এর মোট ইউনিট সংখ্যা ৪টি। তন্মধ্যে ২টি ইউনিট বর্তমানে মেনটেইন্যান্সে এবং ২টি অপারশেনে আছে।

—জা.অর্থনীতি/এএইচএ