বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা: দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) মূলত মধ্যপ্রাচ্য থেকে আনা অপরিশোধিত তেলই পরিশোধন করে। দেশের মোট বার্ষিক জ্বালানি তেলের চাহিদার ৫ ভাগের ১ ভাগ সরবরাহ করত রাষ্ট্রায়ত্ত এ কোম্পানিটি। তবে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর অপরিশোধিত তেল আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে পরিশোধিত তেল আমদানি করছে বাংলাদেশ। ফলে ইআরএলের ওপর নির্ভশীলতা শূন্যে নেমেছে।
জ্বালানি বিভাগের তথ্যমতে, বর্তমানে বছরে প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল বিক্রি হয় দেশে। বছরের শুরুতে নেওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতি মাসে সাধারণত এক থেকে দুটি কার্গো আমদানিপূর্বক ইআরএল উৎপাদন অব্যাহত রাখে। দেশের চাহিদা অনুযায়ী অবশিষ্ট জ্বালানি তেল পরিশোধিত আকারে আমদানি করা হয়।
২০২৪-২৫ অর্থবছর দেশে মোট ব্যবহৃত ডিজেলের পরিমাণ ছিল ৪৭ লাখ ৪২ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে ইআরএল থেকে এসেছিল মাত্র ৭ লাখ ৩২ হাজার ২৩০ মেট্রিক টন। অর্থাৎ দেশের ডিজেলের মোট চাহিদার ১৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ পূরণ করে ইআরএল। আর গত অর্থবছর দেশে মোট ব্যবহৃত পেট্রলের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৮৯ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে ইআরএল থেকে এসেছিল মাত্র ৫৮ হাজার ৩০৯ মেট্রিক টন। অর্থাৎ দেশের পেট্রলের মোট চাহিদার ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ পূরণ করে ইআরএল।
অন্যদিকে গত অর্থবছরে কোনো অকটেনই সরবরাহ করেনি ইআরএল। এ সময় জ্বালানি পণ্যটির চাহিদা ছিল ৪ লাখ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন। তবে ইআরএল থেকে এক ফোঁটা অকটেনও পাওয়া যায়নি। তবে ফার্নেস অয়েল, কেরোসিন ও বিটুমিনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উপজাত হিসেবে ইআরএল থেকে পাওয়া যায়।
বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেল আমদানি ব্যাহত হওয়ায় সরকার পর্যাপ্ত পরিমাণ পরিশোধিত তেল আমদানি করছে। ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে কোনো অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হয়নি। তবে চাহিদা মেটাতে স্পট মার্কেট থেকে প্রায় দ্বিগুণ দামে পরিশোধিত তেল আমদানি করা হচ্ছে।
এ অবস্থায় ইআরএল বন্ধ হলেও তা দেশের জ্বালানি খাতে আপাতত সংকট নেই বলে মনে করছে জ্বালানি বিভাগ। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, পরিশোধিত জ্বালানির আমদানি বাড়ানোর কার্যকর কৌশল নেওয়ার ফলে দেশের সরবরাহ ব্যবস্থা সুরক্ষিত রয়েছে এবং সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে।
জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, আগেই বলেছি, বর্তমানে অকটেন ও পেট্রলের মজুদ আগামী অন্তত দুই মাসের চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট। আমাদের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। এ বিষয়ে আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি। এছাড়া ক্রুড তেলের ঘাটতির কারণে ইস্টার্ন রিফাইনারি ‘লো ফিড’-এ চলছে। তবে এর ফলে সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
তিনি বলেন, আমাদের দ্বিমুখী কৌশল রয়েছে। একদিকে আমরা অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি, অন্যদিকে দেশের শতভাগ চাহিদা মেটাতে পরিশোধিত জ্বালানির আমদানি বাড়ানো হয়েছে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল ও নিরবচ্ছিন্ন রয়েছে।


