ড. সাজ্জাদ এম জসীমউদ্দীন ।। বিশ্বের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যেমন যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ, রাশিয়ার এফএসবি, ইসরায়েলের মোসাদ, যুক্তরাজ্যের এমআই-সিক্স, ফ্রান্সের ডিজিএসআই, জার্মানির বিএনডি, ভারতের ‘র’ এবং পাকিস্তানের আইএসআই নিজ নিজ দেশের সশস্ত্র বাহিনী ও সরকারের কাছে পররাষ্ট্র, সামরিক এবং কৌশলগত গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষত সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে বৈদেশিক রাজনৈতিক-সামরিক ঘটনাবলির উপর নজরদারি ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ করা।
সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ও কৌশলগত অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য বিশ্বব্যাপী সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার আগাম সতর্কতাব্যবস্থা ও কৌশলগত বিশ্লেষণে ব্যাপক বিনিয়োগ করে, যাতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগেই হুমকি চিহ্নিত ও মোকাবিলা করতে পারে। কার্যকর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা, সাইবার সক্ষমতা এবং ডেটা অ্যানালিটিক্সকে মানব গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের সঙ্গে একত্র করে সন্ত্রাসী পরিকল্পনা ও শত্রুতামূলক অভিযানের আগেই তা ব্যর্থ করে দেয়। আইনি সংস্কার, পেশাদারিত্বের বিকাশ এবং নাগরিক সমাজের সঙ্গে সংযোগ এ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জনমুখী ভাবমূর্তি ও বৈধতা ধীরে ধীরে বাড়িয়ে তুলেছে।
সম্প্রতি একটি গবেষণায় নাগরিকরা কীভাবে তাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে (বিশেষত সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো) মূল্যায়ন করে তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যা থেকে কিছু আকর্ষণীয় তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। গবেষণাটি ফ্রান্সে পরিচালিত হয়েছিল, যেখানে কানাডা, ভারত, ফ্রান্স, জার্মানি, পোল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ সাতটি দেশের ভূরাজনীতি-বিষয়ক কোর্সে অধ্যয়নরত স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের মতামত নেওয়া হয়েছিল।
এ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জনগণের পূর্ণআস্থা অর্জন করেছে ও সাধারণভাবে জনসাধারণ তাদের জাতীয় নিরাপত্তার অপরিহার্য অঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মতে, গোয়েন্দা কার্যক্রম সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ, শত্রু রাষ্ট্রকে নিরুৎসাহিত করা ও অভিযানে নিযুক্ত সৈন্যদের সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া তাদের বিশ্বাস এই সংস্থাগুলো হুমকি শনাক্ত ও মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, সাতটি দেশের নাগরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতি উচ্চ ধারণা প্রকাশ করে বিশেষ করে, হামলা প্রতিরোধ ও শত্রু রাষ্ট্রের ষড়যন্ত্র উদ্ঘাটনে তাদের সক্ষমতার জন্য। আশ্চর্যজনকভাবে, অধিকাংশ উত্তরদাতা তাদের নিজ নিজ গোয়েন্দা কার্যক্রমকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন। কারণ এই সংস্থাগুলো দেশীয় রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের নজরদারির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়।
তাদের মতামত হলো, যেখানে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আইনসম্মত বিরোধী মতাবলম্বীদের ওপর নজরদারি থেকে বিরত থাকে, সাংবাদিকদের ভয় দেখায় না ও গণমাধ্যমকে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে না, সেখানে জনসাধারণের আস্থা তুলনামূলক বেশি হয়। গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডকে রাজনৈতিক অস্ত্র নয়, বরং পেশাদার নিরাপত্তা সেবা হিসেবে দেখা হয়।
বিশ্বব্যাপী সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো রাজনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট মৌখিক বা অনানুষ্ঠানিক নির্দেশনাকে নিষিদ্ধ করে ও প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযান একটি সুরক্ষিত টাস্কিং সিস্টেমে নথিভুক্ত রাখতে হয়, যা অনুমোদিত তদারক কর্তৃপক্ষ দ্বারা যাচাই করতে পারে। ফলে গোপন নির্দেশের ওপর নির্ভরতা কমে। এতে প্রকৃত অপরাধী কর্মকর্তা শনাক্ত করা সহজ হয়েছে। তবে তারা স্বীকার করে যে, তাদের সংস্থাগুলো তাদের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থের দেশের বাইরে কিছু অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত।
প্রতিটি দেশে একাধিক নিরাপত্তা সংস্থা আছে। কেউ অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো দেখাশোনা করে এবং অন্যরা বহিরাগত নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে। উদাহরণস্বরূপ সিআইএ ও এফবিআই (যুক্তরাষ্ট্র), এমআই- সিক্স ও এমআই ফাইভ (যুক্তরাজ্য), মোসাদ ও শিন বেত (ইসরায়েল) এবং ‘র’ ও আইবি (ভারত) যথাক্রমে অভ্যন্তরীণ এবং বহিরাগত পাল্টা নিরাপত্তার জন্য প্রাথমিক দায়িত্ব অর্পণ করা। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কোনো দ্বৈত ভূমিকা নেই। তাদের কাজের মধ্যে পুনরাবৃত্তি নেই। প্রতিটি গোয়েন্দা সংস্থা কার্যক্রমকে পরিষ্কার আইনি কাঠামোর আওতায় রয়েছে, যার কাজের পরিধি, ক্ষমতা ও দায়িত্ব সংজ্ঞায়িত। বিশ্বব্যাপী সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিশেষ করে বহির্মুখী জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থের ওপর মনোযোগ দিচ্ছে।
এ জনমত জরিপ নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ওপর ধারাবাহিকভাবে উন্নত আস্থা দেখায়। কারণ মানুষ মনে করে যে, এই সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোই প্রকৃতপক্ষে তাদের নিরাপদ রাখে। একটি শক্তিশালী সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাকে ঐচ্ছিক নয়, বরং অস্তিত্বের জন্য অপরিহার্য হিসেবে দেখা হয়, যা জাতীয় চেতনায় সংস্থাগুলোর মর্যাদা বাড়িয়ে তোলে। দেশের সুরক্ষায় সংস্থাগুলোর ভূমিকা যেভাবে তাদের মতামত চিত্রায়িত করেছে, তার ফলেই এ ইতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হয়েছে।
জুলাই ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী গণতান্ত্রিক রূপান্তরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্রম পুনর্গঠনের জন্য সংস্কার নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সংস্কারের তাগিদ এসেছে মূলত রাজনৈতিক নজরদারি ও গোপন আটক কার্যক্রমের ইতিহাসের অবসান ঘটানোর আকাঙ্ক্ষা থেকে। দুর্ভাগ্যবশত, অতীতে রাজনৈতিক সরকারের চাপের সময়ের সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ভূমিকা বৃদ্ধি পায়—যার মধ্যে রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং নাগরিক সমাজের ওপর গোয়েন্দা তদারকি, প্রভাব খাটানো ও জোরজবরদস্তির মতো কর্মকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা ‘জাতীয় নিরাপত্তা’র নামেই পরিচালিত হতো। ‘আয়নাঘর’ নামে গোপন আটক কেন্দ্রগুলোর অস্তিত্ব প্রকাশ্যে আসে, যেগুলোয় রাজনৈতিক বন্দি ও মতানৈক্য পোষণকারীদের বছরের পর বছর ধরে আটক রাখা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাচনি ফলাফল ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ অভিযোগও নিয়মিতই এসেছে। এ সবই সংস্কার ও জবাবদিহির দাবি বাড়িয়ে দিয়েছে।
একইসঙ্গে জাতিসংঘ থেকেও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে দায়বদ্ধ করার জন্য জোরালো আহ্বান এসেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে, প্রতিটি গুমের ঘটনার তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং তাদের স্থাপনা ও গোপন কক্ষগুলো পরিদর্শনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
কেউ কেউ উন্নত স্পাইওয়্যার বা নজরদারি সফটওয়্যার পরিত্যাগের দাবিও তুলেছে। জানা গেছে, গোয়েন্দা সংস্থা উন্নত স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে বিরোধী নেতা ও কর্মীদের ডিজিটাল যোগাযোগ পর্যবেক্ষণ করেছে। জাতীয় নিরাপত্তার নামে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে এটা ঠিক হবে না। কিন্তু যারা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত, দেশ বা বিদেশে—তাদের বিরুদ্ধে আইনসঙ্গত নজরদারি চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।
সম্প্রতি সুশীল সমাজ (যেমন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ) একটি গোয়েন্দা সংস্থা বিলুপ্ত বা সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে এক প্রাক্তন সেনাপ্রধান প্রকাশ্যে গোয়েন্দা সংস্থা বিলুপ্তির আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংস্থাটি একটি ‘হত্যার সংস্কৃতি’ গড়ে তুলেছে ও ন্যায্যতার ভিত্তি হারিয়েছে। নিঃসন্দেহে, একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দমন, তথ্য নিয়ন্ত্রণ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। প্রশাসনিক আদেশেই মুহূর্তে সংস্থা বিলুপ্ত করা সহজ। অথচ শত শত প্রশিক্ষিত নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তা, কর্মী ও তথ্যদাতারা দেশজুড়ে ও বিদেশে নিযুক্ত আছেন জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার উদ্দেশ্যে। গোয়েন্দা সংস্থাটি বর্তমানে যে স্তরে পৌঁছেছে, সেখানে পৌঁছাতে দশকের পর দশক সময় লেগেছে।
গোয়েন্দা সংস্থা সংস্কার একটি সংবেদনশীল ও ধীরে বাস্তবায়নযোগ্য প্রক্রিয়া। এটি এমনভাবে সম্পন্ন হতে হবে যাতে সন্ত্রাসবিরোধী ও পাল্টা গোয়েন্দা সক্ষমতা ব্যাহত না হয়। নিরাপত্তা সংস্থার সংস্কার মানে কেবল নেতৃত্ব, নাম বা পোশাক পরিবর্তন করা নয়। গোয়েন্দা সংস্থার সংস্কার মানেই নেতৃত্ব পরিবর্তন নয়; ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে ইতোমধ্যে একাধিক মহাপরিচালক পরিবর্তন করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার নেতৃত্ব পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া- সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থা নতুন প্রধান পেতে পারে। তবে ঘন ঘন মহাপরিচালকের পরিবর্তন গোয়েন্দা সংস্থা কার্যকারিতার জন্য ঠিক নয়। আশা করা যায়, নতুন নেতৃত্ব দ্বারা সংস্থাটিকে ধীরে ধীরে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি থেকে সরিয়ে বহিঃবিষয়ক হুমকির দিকে মনোনিবেশ করা সম্ভব।
গোয়েন্দা সংস্থার সাফল্যের ইতিহাসও রয়েছে। তাদের সদস্যরা সুপ্রশিক্ষিত, নিবেদিত ও অভিজ্ঞ। সংস্থাটিকে ‘দলীয় স্বার্থ নয়, জাতীয় স্বার্থে’ সেবা দেওয়ার পথে ফিরিয়ে আনতে হবে। রাজনৈতিক নজরদারি থেকে সরে এসে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম, বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতা, সাইবার হুমকি, পররাষ্ট্র গোয়েন্দা কাজ ও প্রতিরক্ষা নিরাপত্তার দিকে মনোযোগ বদলাতে হবে।
ঐতিহ্যগতভাবে, গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সরকারি নির্দেশ বাস্তবায়নে অত্যন্ত অনুগত ও নিষ্ঠাবান। তবে অনেক সময় তারা নির্দেশের নৈতিক বৈধতা যাচাই না করেই তা কার্যকর করতে বাধ্য হন। এ জন্য রাজনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট মৌখিক বা অনানুষ্ঠানিক নির্দেশনাকে নিষিদ্ধ করে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযান একটি সুরক্ষিত টাস্কিং সিস্টেমে নথিভুক্ত রাখতে হবে, যা অনুমোদিত তদারক কর্তৃপক্ষ দ্বারা যাচাই করতে পারবে। গোয়েন্দা কার্যক্রমকে পরিষ্কার আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে হবে, যাতে কাজের পরিধি, ক্ষমতা ও দায়িত্ব সংজ্ঞায়িত থাকে ও অনানুষ্ঠানিক (গোপন) নির্দেশের ওপর নির্ভরতা কমে। এতে প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত করা সহজ হবে ও নিরপরাধ কর্মকর্তাদের বলির পাঁঠা বানানো বন্ধ হবে।
পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে ও জনসাধারণের নেতিবাচক ধারণা দূর করতে, ধারাবাহিকভাবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকারের নীতি ও মতবাদ (ডকট্রিন) প্রশিক্ষণ দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান ‘আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড (আর্টডক)’ বড় ভূমিকা রাখতে পারে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের জন্য স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স প্রণয়ন করতে পারে, যেখানে নিরাপত্তা নৈতিকতা ও মানবাধিকার সম্পর্কে শিক্ষা প্রদান করা হবে।
গোয়েন্দা সংস্থা বিলুপ্ত করা বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর। বরং সংবেদনশীল সংস্কার প্রক্রিয়াই এর পেশাদারিত্ব বাড়াতে পারে ও হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে পারে। তবে সংস্কার এমনভাবে করতে হবে যাতে সন্ত্রাসবিরোধী ও পাল্টা গোয়েন্দা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। অতীতের সরকারগুলো (বিশেষ করে হাসিনা শাসনকাল) রাজনৈতিক স্বার্থে গোয়ন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আশা করা যায়, বর্তমান নতুন সরকারের আমলে তা আর ঘটবে না। যদিও সংস্থাটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর অধীনে রয়েছে। বর্তমান সরকার ‘দমনযন্ত্রের’ পুরোনো ব্যবহার থেকে সরে এসে গোয়েন্দা সংস্থাকে ‘শাসক রক্ষক’ নয়, বরং ‘রাষ্ট্ররক্ষক’ হিসেবে পুনর্গঠনের পথে পরিচালিত করবে বলে আশা করা যায়, যেখানে সংসদীয় তত্ত্বাবধান, পেশাদারিত্ব ও মানবাধিকার হবে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি।
অধ্যাপক, কেজ বিজনেস স্কুল ও প্রধান, জিওপলিটিকস স্ট্র্যাটেজি ল্যাব (ফ্রান্স)
[প্রবন্ধ, নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, অনুবাদ, প্রতিক্রিয়া ও চিঠিপত্রে প্রকাশিত মতামত, উপস্থাপিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা আইনগতসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের যথার্থতা ও মতামতের দায়িত্ব লেখকের নিজস্ব। এগুলোর সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতির সম্পাদকীয় নীতি বা অবস্থানের সর্বদা মিল না-ও থাকতে পারে। প্রকাশিত লেখার বিষয়ে জাতীয় অর্থনীতি কর্তৃপক্ষের অবস্থান নিরপেক্ষ]


