আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হাঙ্গেরির নতুন সরকারের আর্থিক নীতিতে আস্থা রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। তবে জ্বালানি সংকট এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) তহবিল পাওয়ার জটিলতা দেশটির শিগগির ঘুরে দাঁড়ানোর পথে বাধা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইউরো নিউজ জানায়, নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর নতুন সরকারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার কারণে বাজারে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। পিটার ম্যাগিয়ারের নেতৃত্বাধীন তিসা পার্টির জয়ের পর বুদাপেস্ট শেয়ারবাজারের সূচক প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে যায়।
একই সঙ্গে হাঙ্গেরির মুদ্রা ফরিন্ট ইউরোর বিপরীতে শক্তিশালী হয়েছে, যা ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। সপ্তাহের মাঝামাঝিতে ইউরোর বিপরীতে বিনিময় হার দাঁড়ায় প্রায় ৩৬৪ ফরিন্টে, নির্বাচনের আগে তা ৩৭৭-এর ওপরে ছিল।
এ ছাড়া ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হার কমে ৭ দশমিক ৫২ থেকে ৬ দশমিক ২১ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আর্থিক স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক ঝুঁকি কমার প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছে।
অক্সফোর্ড ইকোনমিকস জানিয়েছে, শুধু নির্বাচনি জয়ই দীর্ঘমেয়াদি উন্নতির জন্য যথেষ্ট নয়—এর সঙ্গে বাস্তব পদক্ষেপ জরুরি। তবে এই পরিবর্তন হাঙ্গেরির অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করছে। মুডি’স বলছে, ইইউর সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের কারণে হাঙ্গেরির নতুন প্রো-ইইউ সরকার দেশের ঋণমান উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, হাঙ্গেরির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে প্রধান চালিকাশক্তি হতে পারে আটকে থাকা ইইউ তহবিল। দুর্নীতি ও আইনের শাসনসংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে পূর্ববর্তী সরকারের সময় প্রায় ১৭ বিলিয়ন ইউরো তহবিল স্থগিত ছিল।
নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাওয়া পিটার জানিয়েছেন, তিনি উরসুলা ভন ডের লিয়েনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং এই তহবিল পাওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন। এই অর্থ অবকাঠামো, জ্বালানি ও পরিবহন খাতে বিনিয়োগের পথ খুলে দিতে পারে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা করবে।
নতুন সরকার দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাদের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ‘হাঙ্গেরিয়ান নিউ ডিল’ নামে পরিচিত, যা বড় পরিসরে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে। এ ছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে ইউরো চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, নতুন সরকারের সামনে কাঠামোগত সমস্যা রয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উচ্চ বাজেট ঘাটতি, কম উৎপাদন, সরকারি বিনিয়োগ কমে যাওয়া এবং পশ্চিম ইউরোপের তুলনায় দ্রুত মজুরি বৃদ্ধির ফলে প্রতিযোগিতা। হাঙ্গেরির নতুন সরকারকে একদিকে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে হবে। ইইউ তহবিলের মাধ্যমে অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে তা নির্ভর করছে কার্যকর সংস্কার ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর।


