জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। এর মধ্যে এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হলেও চীনের অর্থনীতিতে প্রভাব পড়েনি; ইতিবাচক ধারায় রয়েছে প্রবৃদ্ধি। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি গতিতে বেড়েছে চীনের অর্থনীতি।
গতকাল বৃহস্পতিবার চীন সরকারের বরাতে বিবিসি জানায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-মার্চ সময়ে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫ শতাংশ বেড়েছে, যা প্রত্যাশিত ৪ দশমিক ৮ শতাংশের চেয়ে বেশি। গত মাসেই বার্ষিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা আগের চেয়ে কমানো হয়। এটি ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে থাকবে বলে ধরা হয়, যা ১৯৯১ সালের পর সর্বনিম্ন লক্ষ্যমাত্রা।
এর পর গতকাল প্রথম জিডিপির পরিসংখ্যান প্রকাশ করল চীন। আগের প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) প্রবৃদ্ধি হয় সাড়ে ৪ শতাংশ। জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে চীনের অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে ভূমিকা রেখেছে উৎপাদন খাত। তবে আবাসন খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চাপের মধ্যে আছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের বিশ্লেষক কাইল চ্যানের মতে, ইরান যুদ্ধের প্রভাব এখনও হয়তো পড়েনি। তবে এপ্রিল-জুন সময়ে প্রবৃদ্ধির গতি দুর্বল হতে পারে। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আওতায় মার্চে সর্বশেষ জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য ঘোষণা করেছে চীন। উদ্ভাবন, উচ্চ-প্রযুক্তি এবং অভ্যন্তরীণ ব্যয় বাড়াতে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি রয়েছে উদ্দেশ্যে।
চীনের অর্থনীতি এখন দুর্বল চাহিদা, জনসংখ্যা কমে যাওয়া, আবাসন সংকটের মতো সমস্যায় জর্জরিত। এ অবস্থায় অর্থনীতিকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করছে দেশটির সরকার। আন্তর্জাতিকভাবেও ইরান যুদ্ধ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতিসহ নানা বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনায় চীন জ্বালানি সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রে বেশিরভাগ পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে চীনকে ১০ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার মার্চের রপ্তানির পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে চীন। তাতে দেখা যায়, গত মাসে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি গত বছরের একই সময়ের চেয়ে আড়াই শতাংশ কমেছে, যা গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে আগের দুই মাসে সম্মিলিত রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ওই সময় ইলেকট্রনিক্স এবং উৎপাদিত পণ্যের শক্তিশালী চাহিদার কারণে রপ্তানি বেড়ে যায়।
এদিকে মার্চ মাসে আমদানি আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২৮ শতাংশ বেড়েছে। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ইজিয়াও ঝৌ বলেন, ইরান যুদ্ধের কারণে প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়েছে। ফলে দেশটির আমদানি ব্যয় বেড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো এশিয়ার বড় অর্থনীতির দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


