খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : খাগড়াছড়িতে তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পেট্রল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না পর্যাপ্ত জ্বালানি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, পর্যটক এবং কৃষকরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই খাগড়াছড়ির অধিকাংশ পেট্রল পাম্প বন্ধ রয়েছে। কোথাও কোথাও সীমিত সময়ের জন্য জ্বালানি বিক্রি করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। শহরের মেহেরুন্নেছা ফিলিং স্টেশনে সকাল ও বিকেলে কয়েক ঘণ্টা অকটেন ও ডিজেল বিক্রি করা হয়। তবে সকালেই শেষ হয়ে যায় অকটেন, আর বিকাল ৫টার দিকে শেষ হয় ডিজেল। জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে কৃষিক্ষেত্রেও। সেচযন্ত্র চালাতে না পারায় জমিতে পানি দিতে পারছেন না কৃষকরা।
জেলা সদরের ভূয়াছড়ি এলাকার কৃষক গোলাম মোস্তফা বলেন, আমি সাড়ে তিনকানি জমিতে ধান চাষ করেছি। পানির সংকটে ধান নষ্ট হওয়ার পথে। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল পাওয়া যায় না। এভাবে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলে অন্য কাজ কখন করব। পাম্পের দুই পাশে কয়েকশত যানবাহন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও অধিকাংশই জ্বালানি ছাড়াই ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে। শান্তি পরিবহনের বাস চালক মো. শাহআলম বলেন, একটি বাস চালিয়ে দুই-তিন দিন তেলের জন্য বসে থাকতে হচ্ছে। আজ সারা দিন ধরে তেলের জন্য সিরিয়াল ধরে আছি আর কয়েকটি গাড়ি পার হলেই তেল নিতে পারতাম। এখন পাম্প থেকে মাইকিং করছে তেল শেষ। সারা দিন খাবারের ঠিক নেই, গোসলের ঠিক নেই এভাবে কতদিন সুস্থ থাকা যায়।
এদিকে তেলের সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাজেকগামী পর্যটকরাও। পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় খাগড়াছড়ি থেকে অনেক যানবাহন গন্তব্যে যেতে পারছে না। সাজেক সড়কের গাড়িচালক মো. কামরুল হাসান বলেন, সাজেক আপ-ডাউন করতে গাড়িতে তেল লাগে ৪০ লিটার। পাম্প থেকে আমাদের তেল দেয় ১ হাজার ৫০০ টাকার। এ তেল দিয়ে সাজেক আপ-ডাউন করা যায় না।
মেহেরুন্নেছা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার নজরুল ইসলাম বলেন, আজ রাতে ৪ হাজার লিটার ডিজেল আসবে। তখনই বিক্রি করা হবে। একই সাথে ৪ হাজার লিটার অকটেন আসলে আগামীকাল শুক্রবার সকালে বিক্রি হবে। তিনি বলেন, এখন আম চাষের মৌসুম হওয়ায় জালানির চাহিদা বেশি। বাগানে স্প্রে করতে ডিজেল অকটেনের প্রয়োজন। এছাড়া বোরো ধানের জমিতেও সেচ দিতে হয়। উপজেলাগুলোতে তেল না থাকার প্রভাবও পরে এখানে। স্থানীয় অনেকেই অভিযোগ করেছেন, তেলের পাম্পগুলো তেল থাকার পরও রোটেশন করে তেল দেয়। যার ফলে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ জট।


