বাংলাদেশ ক্রিকেটে সম্মান জানানোর এক ব্যতিক্রমী আয়োজন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন সভাপতি তামিম ইকবাল ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ চালু করে সাবেক অধিনায়কদের মর্যাদার নতুন কাঠামো দাঁড় করাল। তবে সেই মঞ্চে অনেকেই ছিলেন অনুপস্থিত।
আজ রাতে রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের হয়ে অন্তত একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়া ৩২ জন অধিনায়ককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিশেষ ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’, যা দিয়ে তারা ভবিষ্যতে আইসিসি, এসিসি কিংবা দেশের যেকোনো সিরিজ ও টুর্নামেন্টে সরাসরি প্রবেশাধিকার পাবেন। চিকিৎসা সুবিধাসহ আরও কিছু বিশেষ সুবিধাও থাকছে এই কার্ডের সঙ্গে। উদ্দেশ্য পরিষ্কার-অধিনায়কত্ব করা ক্রিকেটারদের আজীবন সম্মান ও সংযোগে রাখা।
কিন্তু এই সম্মাননার আয়োজনে সবচেয়ে বড় আলোচনার জন্ম দেয় অনুপস্থিতির তালিকা। বিশেষ করে সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মর্তুজার না থাকা যেন পুরো আয়োজনের আবহ বদলে দেয়। তাদের সঙ্গে অনুপস্থিত ছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল, নাঈমুর রহমান দুর্জয়, খালেদ মাসুদ পাইলট ও ফারুক আহমেদ-যারা প্রত্যেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অংশ।
এর মধ্যে সবচেয়ে অস্বস্তিকর ইঙ্গিত এসেছে বুলবুলকে ঘিরে। বোর্ড রাজনীতির একসময়কার গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রকে আমন্ত্রণ জানাতে গিয়ে তামিম আবিষ্কার করেন-তিনি ফোনেই পৌঁছাতে পারছেন না। কারণ, তাকে ব্লক করে রাখা হয়েছে। এই একটি তথ্যই যেন বলে দেয়, মাঠের ক্রিকেটের বাইরে সম্পর্কের সমীকরণ কতটা জটিল হয়ে উঠেছে।
তামিম জানিয়েছেন, তিনি নিজেই সাবেক অধিনায়কদের ফোন করেছেন। সাকিবের সঙ্গে কথা হয়েছে, কিন্তু বিদেশে থাকায় তিনি আসতে পারেননি। মাশরাফি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দূর থেকেই। অন্যদের ক্ষেত্রেও ছিল ব্যস্ততা বা ব্যক্তিগত কারণ। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়-একটি সম্মাননার আয়োজনে দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী অধিনায়করা কেন একসঙ্গে উপস্থিত হতে পারলেন না?
এই ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ মূলত প্রতীকী উদ্যোগ হলেও এর তাৎপর্য গভীর। এই ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ দিয়ে আইসিসি ইভেন্ট, এসিসি ইভেন্ট, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ কিংবা বিপিএলের ম্যাচে বিশেষ সুবিধায় স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারবেন সাবেক অধিনায়কেরা। এছাড়া অসুস্থ হলে বিসিবির মেডিকেল টিমও তাদের পাশে থাকবে।


