আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বর্তমান বিশ্বের চলমান সংঘাত ও যুদ্ধাবস্থা নিয়ে বিশ্বনেতাদের তীব্র সমালোচনা করেছেন ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ লিও চতুর্দশ। আফ্রিকার দেশ ক্যামেরুন সফরকালে দেওয়া এক ভাষণে তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন, বর্তমানে গোটা বিশ্ব মুষ্টিমেয় কিছু স্বৈরশাসকের মর্জিতে বিধ্বস্ত হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোপের বিরুদ্ধে পুনরায় আক্রমণাত্মক মন্তব্য করার পর বৃহস্পতিবার ক্যামেরুনের ইংরেজিভাষী অঞ্চলের বৃহত্তম শহরে এক জনসভায় পোপ এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। আমেরিকার ইতিহাসে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে পোপের আসনে বসা লিও চতুর্দশ তাঁর বক্তব্যে বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান ‘যুদ্ধংদেহী নীতিমালার চূড়ান্ত পরিবর্তনের’ জোরালো আহ্বান জানান।
পোপ লিও চতুর্দশ তাঁর ভাষণে যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং এর পেছনে থাকা শাসকদের অসংবেদনশীলতাকে নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলেন। তিনি বলেন, যুদ্ধের হোতা এবং নীতিনির্ধারকদের কাছে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো মাত্র এক মুহূর্তের বিষয়, যেখানে তাঁরা প্রায়ই না জানার ভান করে থাকেন। অথচ একটি বিধ্বস্ত জনপদ পুনরায় গড়ে তুলতে মানুষের পুরো একটি জীবনও যথেষ্ট নয়। পোপ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, বর্তমান বিশ্বের ক্ষমতাধরেরা হত্যা ও ধ্বংসলীলায় শত শত কোটি ডলার অকাতরে ব্যয় করছেন, কিন্তু যখনই মানবসেবা, চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চল পুনরুদ্ধারের প্রশ্ন আসে, তখন প্রয়োজনীয় সম্পদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায় না। এটিকে তিনি আধুনিক সভ্যতার জন্য এক চরম পরিহাস বলে অভিহিত করেন।
ভাষণের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল ধর্মের অপব্যবহার নিয়ে পোপের উদ্বেগ। তিনি ওইসব নেতাদের কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন যারা নিজেদের যুদ্ধ বা সামরিক আগ্রাসনকে বৈধতা দিতে ধর্মীয় ভাষা ব্যবহার করেন। পোপ বলেন, ‘ধিক তাঁদের ওপর, যারা নিজেদের সংকীর্ণ সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য ধর্ম এবং স্বয়ং ঈশ্বরের নামকে বিকৃত করে।’ তিনি সতর্ক করে দেন যে, পবিত্রতাকে এভাবে স্বার্থের অন্ধকারে টেনে নিয়ে যাওয়া এক ধরণের কলুষতা। তাঁর মতে, এটি একটি ‘উল্টে যাওয়া জগত’ যেখানে ঈশ্বরের সৃষ্টিকে শোষণ করা হচ্ছে। তিনি প্রতিটি বিবেকবান মানুষকে এই ধরণের হঠকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ ও প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য যে, পোপ লিওর ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক মনোভাবের সূত্রপাত হয়েছিল পোপের আফ্রিকার চারটি দেশ সফরের ঠিক আগমুহূর্তে। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ট্রাম্প পুনরায় পোপকে লক্ষ্য করে সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তবে পোপ লিও ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আক্রমণের চেয়েও বর্তমান বিশ্বের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তিকে তাঁর বক্তব্যে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। তাঁর এই ভাষণকে মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে চলা অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। পোপের এই বলিষ্ঠ অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন কোনো মেরুকরণের সৃষ্টি করে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
জেএ/অভি


