শেষ বাঁশির আগে গল্প বদল!
  • দুই লেগ মিলিয়ে ৬–৪ ব্যবধানে জিতল বায়ার্ন
  • হ্যারি কেইনের গোলটি ছিল তার মৌসুমের ৫০তম
  • প্রথমার্ধেই হয় ৫টি গোল, ম্যাচ নেয় নাটকীয় মোড়
  • বায়ার্ন ৬৮.৬% বল দখলে রাখে
  • রিয়াল গোলে নেয় ১২ শট,  বায়ার্ন ২১টি
  • সেমিতে বায়ার্নের সামনে পিএসজি

ক্রীড়া প্রতিবেদক: ফুটবল কখনও হিসাব মানে না! কখনও এক সেকেন্ডেই বদলে যায় গল্প, আবার কখনও এক লাল কার্ডে ভেঙে পড়ে স্বপ্নের পাহাড়। মিউনিখের আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় সেই গল্পটাই যেন নতুন করে লেখা হলো-যেখানে আনন্দ, হতাশা আর নাটকীয়তা একসঙ্গে হাত ধরাধরি করে হাঁটল পুরো ৯০ মিনিট। ফুটবলের সৌন্দর্য অনেক সময় স্কোরলাইনে ধরা পড়ে না, ধরা পড়ে ওঠানামায়-এক দল এগোয়, অন্য দল ফিরে আসে, তার পর আবার সবকিছু উল্টে যায়। ঠিক তেমনই এক দোলাচলের গল্প, যেখানে প্রতিটি মিনিট যেন লিখেছে নতুন এক দৃশ্য!

শেষ পর্যন্ত জয়টা গেল বায়ার্ন মিউনিখেরই। ৪–৩ গোলের শ্বাসরুদ্ধকর জয়, আর দুই লেগ মিলিয়ে ৬–৪ ব্যবধানে বিদায় নিল ১৫ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ। সেমিফাইনালে বায়ার্নের প্রতিপক্ষ এখন পিএসজি, আরেক মহারণের অপেক্ষা। ম্যাচের শুরুটাই ছিল বিস্ময়ের। ৩৫ সেকেন্ডেই গোল! মানুয়েল নয়্যারের ভুল পাস যেন আচমকা উপহার হয়ে এলো আরদা গুলেরের পায়ে। তরুণ তুর্কি মিডফিল্ডারের বাঁ পায়ের শট জালে জড়িয়ে দিতেই স্তব্ধ হয়ে যায় গ্যালারি। চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালের দ্রুততম গোল-আর ম্যাচের সুরও যেন তখনই বেঁধে যায়।

কিন্তু এই ম্যাচে স্থিরতা বলে কিছু ছিল না। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই পাল্টা জবাব বায়ার্নের। জশুয়া কিমিখের কর্নার থেকে আলেকসান্দার পাভলোভিচের হেড-এবার ভুল করলেন আন্দ্রে লুনিন। যেন গোলরক্ষকদের ভুলেই সাজানো হচ্ছিল প্রথমার্ধের নাটক। ২৯ মিনিটে আবার গুলের। দূরপাল্লার ফ্রি-কিকে তার নিখুঁত শট-নয়্যার ছুঁয়েও বাঁচাতে পারলেন না। মনে হচ্ছিল, রাতটা বুঝি তারই। কিন্তু সেই আলো বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না।

হ্যারি কেইন যেন মনে করিয়ে দিলেন, কেন তিনি বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকারদের একজন। ডি-বক্সে সুযোগ পেয়ে নিখুঁত ফিনিশে সমতা ফেরালেন। এর পর আবার এগিয়ে গেল রিয়াল, কিলিয়ান এমবাপ্পের ঠান্ডা মাথার প্লেসিংয়ে। প্রথমার্ধের পাঁচ গোল, যেন এক ম্যাচেই দুই-তিন ম্যাচের গল্প!

দ্বিতীয়ার্ধ তুলনায় কিছুটা ধীর, কিন্তু ভেতরে ভেতরে জমছিল ঝড়। স্কোরলাইন, হিসাব-সবই ইঙ্গিত দিচ্ছিল অতিরিক্ত সময়ের দিকে। দুই লেগ মিলিয়ে তখন ৪–৪, ম্যাচ যেন অপেক্ষা করছিল আরেক নাটকের।

সেই নাটকের মঞ্চ প্রস্তুত হলো ৮৬ মিনিটে। এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার দ্বিতীয় হলুদ কার্ড-রিয়াল নামল ১০ জনে। এক মুহূর্তেই বদলে গেল সব সমীকরণ। এর পর আর দেরি হয়নি। ৮৯ মিনিটে লুইস দিয়াস সমতা ফেরালেন। আর যোগ করা সময়ে মাইকেল ওলিসের গোল, শেষ পেরেক ঠুকে দিল রিয়ালের কফিনে। যে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে যেতে পারত, সেটাই শেষ হলো বায়ার্নের উল্লাসে।

পরিসংখ্যানও বলে দেয় বায়ার্নের আগ্রাসন-প্রায় ৬৯ শতাংশ বল দখল, ২১টি শট। কিন্তু এই ম্যাচ শুধু সংখ্যার ছিল না, ছিল মুহূর্তের। আর সেই মুহূর্তগুলো শেষ পর্যন্ত নিজেদের করে নিয়েছে বায়ার্ন। রাতটা হয়তো গুলেরের হতে পারত। কিংবা কেইন-এমবাপ্পের দ্বৈরথের গল্পও হতে পারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গল্পটা হয়ে গেল এক লাল কার্ড আর শেষ দশ মিনিটের ঝড়ের। এই কারণেই ফুটবল ‘দ্য বিউটিফুল গেম’। এখানে শেষ বাঁশি বাজার আগে কোনো গল্পই শেষ হয় না!