সৌদি সফরের পরদিনই কাতারে শেহবাজ শরিফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিরসনে এবং ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার পথ সুগম করতে এক বিশেষ কূটনৈতিক মিশনে কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। বুধবার সৌদি আরবের জেদ্দায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষ করার মাত্র এক দিনের ব্যবধানে তিনি আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) কাতারে পা রাখলেন। এই ঝটিকা সফরকে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দোহায় অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। কাতার দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংকটে সফল মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। ফলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এই সফর মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা সংলাপকে চূড়ান্ত রূপ দিতে কাতারের প্রভাব ও সহযোগিতাকে কাজে লাগানোর একটি সুপরিকল্পিত প্রয়াস বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসলামাবাদে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার মুখোমুখি আলোচনার পর থেকে পাকিস্তান বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, এটি মূলত চার দিনব্যাপী একটি বিশেষ কূটনৈতিক সফরের অংশ। এই সফরের প্রথম দুই দিনে তিনি সৌদি আরব ও কাতার সফর করছেন এবং এর পরের গন্তব্য হচ্ছে তুরস্ক। সেখানে তিনি ‘আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামে’ অংশগ্রহণ করবেন। ফোরামের ফাঁকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানসহ অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে শেহবাজ শরিফ বৈঠক করবেন। এই সফরের মূল লক্ষ্যই হলো মধ্যপ্রাচ্যে একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তৈরি করা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মূল ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে বিমান হামলা চালানোর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ সামরিক সংকটের আবর্তে পড়ে। সেই হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক অবকাঠামো ও তাঁদের মিত্র দেশগুলোতে পাল্টা আঘাত হানছে। এমনকি এই অঞ্চল থেকে বৈশ্বিক জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরণের অস্থিরতা তৈরি করেছে তেহরান। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো সরাসরি সংলাপে বসেছিল তেহরান ও ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিরা।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের বর্তমান এই ‘শাটল ডিপ্লোম্যাসি’ বা বিরামহীন কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ প্রমাণ করে যে, দেশটি সংঘাতের দুই পক্ষের মধ্যে একটি বিশ্বস্ত সেতুবন্ধন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। সৌদি আরব ও কাতারের মতো প্রভাবশালী আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তান যদি দ্বিতীয় দফার আলোচনা সফল করতে পারে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বিশ্ব জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা ফেরানোর ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। আপাতত পুরো বিশ্বের নজর এখন শেহবাজ শরিফের এই সফরের পরবর্তী ফলাফল এবং ইসলামাবাদের সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার বৈঠকের দিকে।

জেএ/অভি