ক্রীড়া প্রতিবেদক: ছুটির দিনের সকাল গড়াতেই আজ মিরপুরের আকাশে জমবে অন্য রকম ব্যস্ততা। দুপুরের আগেই স্টেডিয়ামের গ্যালারি ভরতে শুরু করবে, হাতে পতাকা, গায়ে জার্সি, মুখে প্রত্যাশা। কারণ আজ শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজ। তিন ম্যাচের এই লড়াই শুধু একটি সিরিজ নয়, বাংলাদেশের জন্য এটি ভবিষ্যতের দরজায় কড়া নাড়ারও উপলক্ষ।
অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ গতকাল জানিয়ে দিয়েছেন, লক্ষ্য শুধু ভালো ক্রিকেট খেলা নয়-লক্ষ্য সিরিজ জয়। আরও স্পষ্ট করে বললে, ২০২৭ বিশ্বকাপের পথে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়ার শুরু দেখতে চান তিনি। সাম্প্রতিক বোর্ড অস্থিরতা বা মাঠের বাইরের আলোচনাকে তিনি গুরুত্ব দিতে চাননি। দলের মনোযোগ মাঠেই-এই বার্তাই দিয়েছেন অধিনায়ক।
বাংলাদেশের সামনে আজ দ্বৈত চ্যালেঞ্জ। একদিকে শক্তিশালী নিউজিল্যান্ডকে হারানোর লড়াই, অন্যদিকে আইসিসি ওয়ানডে র্যাংবিংয়ের জটিল অঙ্ক। বর্তমানে ৭৯ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ আছে ৯ নম্বরে। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকে এই জায়গায় উঠেছে তারা। এখন সামনে আরও বড় সুযোগ।
নিউজিল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারাতে পারলে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট দাঁড়াবে ৮৩। আর ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিততে পারলে তা হবে ৮৫। যদিও তাতেও সঙ্গে সঙ্গে ৮ নম্বরে ওঠা সম্ভব নয়, কারণ সেখানে থাকা ইংল্যান্ডের পয়েন্ট ৮৮। তবু ব্যবধান কমে আসবে, যা আগামী মাসগুলোর জন্য বড় সঞ্চয়।
হারের মধ্যেও কিছু সমীকরণ আছে। বাংলাদেশ যদি ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারে, তবু একটি রেটিং পয়েন্ট যোগ হবে। তবে ৩-০ ব্যবধানে হারলে কমবে এক পয়েন্ট। তবু ৯ নম্বর অবস্থান খুব একটা নড়বে না, কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজের পয়েন্ট ৭৭।
অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের জন্য সিরিজটি খানিকটা ঝুঁকিরও। র্যাংকিংয়ের দুই নম্বরে থাকা দলটির পয়েন্ট ১১৪। বাংলাদেশের মতো নিচের সারির দলের বিপক্ষে হারলে তাদের পয়েন্ট কমার সম্ভাবনাই বেশি। অর্থাৎ বাংলাদেশ জিতলে শুধু নিজেদের লাভ নয়, কিউইদেরও ধাক্কা দিতে পারবে।
এই কারণেই সিরিজটি কেবল তিন ম্যাচের দ্বৈরথ নয়, এটি ভবিষ্যতের রাস্তাও। আগামী বছরের ৩১ মার্চ র্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পাওয়া দলগুলো। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে বাদে শীর্ষ আট দল সরাসরি খেলবে বিশ্বকাপে। তাই বাংলাদেশের প্রতিটি ম্যাচ এখন প্রায় বাছাইপর্বের মতোই মূল্যবান।
মাঠের ক্রিকেটের বাইরে আজ আরেকটি নতুন দৃশ্যও দেখা যেতে পারে। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল দর্শকসেবায় অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন। মাঠে আসা সমর্থকদের অভিজ্ঞতা কেমন, কোথায় সমস্যা, কীভাবে আরও উন্নতি করা যায়-এসব জানতে তিনি নিজেই গ্যালারির দর্শকদের সঙ্গে বসবেন। দৈবচয়ন পদ্ধতিতে কয়েকজন দর্শকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন তিনি।
বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতিতে দর্শক সব সময়ই বড় শক্তি। গ্যালারির গর্জন, পতাকার ঢেউ, একসঙ্গে ‘বাংলাদেশ’ ধ্বনি-এই আবেগই দলকে আলাদা করে। সেই সমর্থকদের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নতুন এক বার্তা দিচ্ছে-ক্রিকেট শুধু মাঠে নয়, গ্যালারিতেও।
আজকের ম্যাচ সকাল ১১টায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। দ্বিতীয় ম্যাচও মিরপুরে ২০ এপ্রিল, আর শেষ ম্যাচ ২৩ এপ্রিল চট্টগ্রামে।
সিরিজের শুরুতে বাংলাদেশ কী পাবে জয়, আত্মবিশ্বাস, নাকি শুধু শিক্ষা-তা সময় বলবে। তবে নিশ্চিত করে বলা যায়, আজকের দিনটি শুধু একটি ম্যাচের দিন নয়। এটি নতুন মিশনের প্রথম শুরু!
বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজ সূচি
তারিখ ম্যাচ ভেন্য শুরুর সময়
১৭ এপ্রিল ১ম ওয়ানডে মিরপুর বেলা ১১টা
২০ এপ্রিল ২য় ওয়ানডে মিরপুর বেলা ১১টা
২৩ এপ্রিল ৩য় ওয়ানডে চট্টগ্রাম বেলা ১১টা


