নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: দেশের পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল প্রায় স্থিতিশীল অবস্থায় লেনদেন শেষ হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা একদিকে করপোরেট আয়ের ঘোষণার অপেক্ষায় ছিলেন অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিরতি আলোচনা ঘিরে চলমান অনিশ্চয়তার দিকেও সতর্ক নজর রাখেন। ফলে বাজারে সার্বিকভাবে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। একইসঙ্গে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে।
দিনভর বাজারে সূচক ওঠানামা করেছে। মধ্যভাগ পর্যন্ত বাজারে অস্থিরতা থাকলেও পরবর্তীতে কিছু নির্দিষ্ট শেয়ারে ক্রয়চাপ বাড়ে। বিশেষ করে স্বল্পমেয়াদি মুনাফার আশায় কিছু বিনিয়োগকারী সক্রিয় থাকায় স্পেকুলেটিভ শেয়ারে দাম কিছুটা বাড়ে। তবে বড় মূলধনী শেয়ারে বিক্রয়চাপ অব্যাহত থাকায় সূচকের বড় ধরনের অগ্রগতি হয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত বাজার প্রায় ফ্ল্যাট অবস্থায় দিন শেষ করে।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এদিন ১ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ২৫৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের কার্যদিবসে সূচক ছিল ৫ হাজার ২৫৫ পয়েন্টে। ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক শূন্য দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ বা শূন্য দশমিক ৩০ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬৬ পয়েন্টে স্থির হয়। এছাড়া ডিএস৩০ সূচক শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ বা ৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৯০ পয়েন্ট।
লেনদেন কিছুটা কমেছে। এদিন মোট লেনদেন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮০৬ কোটি টাকা যা আগের কার্যদিবসে ছিল প্রায় ৮৩৬ কোটি টাকার বেশি। অর্থাৎ লেনদেনে ৩০ কোটি টাকা বা প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ পতন দেখা গেছে।
দিনে মোট ৩৯৪টি সিকিউরিটিজ লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৩১টির দর বেড়েছে, ২০১টির কমেছে এবং ৬২টি অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে বোঝা যায় বাজারে বিক্রয়চাপ কিছুটা বেশি ছিল।
এদিকে ডিএসই থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গতকাল মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৬৩২ কোটি টাকা। আগের কার্যদিবসে যা ছিল প্রায় ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক দিনে বাজার মূলধন বেড়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা। এ বৃদ্ধিকে বাজারে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারে ক্রয়চাপ ফেরার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে কিছু বড় মূলধনী শেয়ারে স্থিতিশীল চাহিদা থাকায় সামগ্রিক বাজারমূল্যে সামান্য উন্নতি হয়েছে।
সপ্তাহের শেষ দিনে খাতভিত্তিক লেনদেনে প্রকৌশল খাত সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল। এরপর ফার্মা এবং টেক্সটাইল খাত উল্লেখযোগ্য অংশ দখল করে। খাতভিত্তিক রিটার্নে তথ্যপ্রযুক্তি, ট্যানারি এবং সিরামিক খাতে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। অন্যদিকে কাগজ, পাট এবং ভ্রমণ খাতে দরপতন হয়েছে। এতে বোঝা যায় খাতভিত্তিক পারফরম্যান্সে স্পষ্ট বিভাজন ছিল।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, করপোরেট আয়ের মৌসুম শুরু হওয়ার আগে বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষমাণ অবস্থানে আছেন। পাশাপাশি বৈশ্বিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাজারে বড় ধরনের দিকনির্দেশনা আসতে দিচ্ছে না। ফলে বাজার এখনও মিশ্র ও সীমিত পরিসরের ট্রেডিংয়ে আটকে আছে।
ব্লক মার্কেটেও সক্রিয়তা ছিল উল্লেখযোগ্য। বড় অঙ্কের লেনদেন হয়েছে একাধিক শেয়ারে। এর মধ্যে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ৩ কোটি ৮৫ লাখ, এছাড়া ব্লক মার্কেটে বড় লেনদেন হয়েছে এপেক্স স্পিনিংয়ের, কোম্পানিটির ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। এরপর ছিল প্রগতি ইন্স্যুরেন্স; কোম্পানিটির লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৬১ লাখ টাকা। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেডের লেনদেন হয়েছে ২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এছাড়া উত্তরা ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক এবং ওয়ালটন হাই-টেকেও বড় লেনদেন দেখা গেছে। এতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের ইঙ্গিত মিলেছে।
দেশের অপর পুঁজিবাজার সিএসইতে গতকাল মোট ২০৮ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৮৬টির দর বেড়েছে, ৮৮টির কমেছে আর ৩৪টির দর অপরিবর্তীত ছিল। সূচকের পাশাপাশি গতকাল সিএসইতে লেনদেন সামান্য বেড়েছে। সিএসইতে সপ্তাহের শেষদিনে লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি ৪৩ লাখ টাকার আগেরদিন লেনদেন হয়েছিল প্রায় ২৪ কোটি টাকার।


