নোয়াখালী প্রতিনিধি: ঈদে মায়ের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে ৬ মাসের সন্তান ও স্ত্রীকে ঢাকায় রেখে বাড়ির পথে রওনা হয়েছিলেন রায়হান। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে উঠলো জীবনের শেষ যাত্রা।
ঈদের দিন শনিবার (২১ মার্চ) রাতে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থেকে ‘মামুন পরিবহন’-এর একটি বাসে নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। পথে কুমিল্লার পদুয়া বাজার এলাকায় ট্রেনের সঙ্গে বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে রায়হানসহ মোট ১৩ জন নিহত হন।
নিহত মোহাম্মদ রায়হান নোয়াখালী সদর উপজেলার চরমটুয়া ইউনিয়নের ফাজিলপুর গ্রামের মৃত মোহাম্মদ সেলিমের বড় ছেলে। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন তিনি। ছোটবেলা থেকে ঢাকায় বড় হলেও প্রতি ঈদ তিনি গ্রামের বাড়িতেই কাটাতেন।
ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে গড়ে তোলা ছোট জুতার ব্যবসা ছিল পরিবারের একমাত্র ভরসা। ৪ বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর মা, ভাই ও বোনের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন রায়হান। স্ত্রী নুসরাত ও ৬ মাস বয়সী কন্যা রাহিয়াকে নিয়ে সেখানেই বসবাস করতেন তিনি।
তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি এখন অসহায় হয়ে পড়েছে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে মা রেহেনা বেগম ও স্বামী হারিয়ে স্ত্রী নুসরাত শোকে ভেঙে পড়েছেন।
রোববার (২২ মার্চ) রাত ৮টায় জানাজা শেষে রায়হানকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
একই দুর্ঘটনায় নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিরাবাদ এলাকার বাবুল চৌধুরী (৫৫) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। রাত ৯টায় জানাজা শেষে তাকেও পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নোয়াখালীর দুই পরিবারের পাশাপাশি পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের পরিবারের প্রতি জানাই আন্তরিক সমবেদনা। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
—জা.অর্থনীতি/এনজে

