মুকুলে ছেয়ে গেছে লিচুর বাগান, ঈশ্বরদীতে বাম্পার ফলনের আশা

কলিট তালুকদার, পাবনা: পাবনার লিচুর কদর দেশজুড়ে। লিচুর রাজধানী খ্যাত এ জেলায় সবচেয়ে বেশি লিচু চাষ হয়ে থাকে ঈশ্বরদী উপজেলায়। এ উপজেলার পথেঘাটে এখন মুকুলের সুবাস। বাগানের গাছগুলোতে থোকায় থোকায় মুকুলে ভরে গেছে। লিচুর সোনালি মুকুল হাওয়ায় দোল খাচ্ছে। এবার লিচুর বাম্পার ফলনে আশাবাদী চাষি ও কৃষি কর্মকর্তারা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ উপজেলায় ৩ হাজার ১০০ একর জমিতে চাষ হয় লিচুর। আর এ উপজেলায় লিচুর বাগান রয়েছে ১১ হাজার ২৭০টি।

গতবছর ঈশ্বরদী উপজেলায় উৎপাদিত লিচুর বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। তবে এ বছর গাছে পর্যাপ্ত মুকুল আসায় বাজারমূল্য আগের যেকোনো সময়ের রেকর্ড ভাঙবে বলে আশা করছেন চাষিরা।

ঈশ্বরদীর পাশাপাশি সদর উপজেলার কিছু অংশ এবং চাটমোহর উপজেলার বড় একটি অংশজুড়ে লিচুর চাষ হয়ে থাকে। লিচুর বাগানগুলো ভরে গেছে মুকুলে। বাগান মালিকরাও তাই ব্যস্ত সময় পার করছেন লিচু গাছ পরিচর্যায়। গাছে পানি সেচসহ সব ধরনের পরিচর্যা করেছেন তারা। গাছে গাছে মুকুলের সমারহে বাম্পার ফলনের আশা করছেন লিচু চাষিরা। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালই লাভ হবে বলে মনে করছেন তারা।

উপজেলার আওতাপাড়া গ্রামের লিচু চাষি আবুল হোনে জানান, তার বাগানে ১৩৭টি লিচু গাছ রয়েছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ৭ গাছ বাদে প্রতিটি গাছে পর্যাপ্ত মুকুল এসেছে। মুকুল যেন ঝরে পড়ে না যায়, সেজন্য বাগানের নিয়মিত পরিচর্যা করছেন। প্রতিটি লিচু গাছে প্রয়োজনীয় পানি ও কীটনাশক স্প্রে করা হয়েছে। মুকুল যেভাবে এসেছে তাতে তিনি আশা করেন, ফলন ভালো হবে।

সরেজমিনে ঈশ্বরদী উপজেলায় গিয়ে দেখা যায়, মুকুলে নুয়ে পড়া লিচু গাছগুলোর মিষ্টি গন্ধে মাতোয়ারা চারপাশ। বাগানে মৌবাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মৌ খামারি। মৌবাক্স বসানোতে উপকৃত হচ্ছে বাগান মালিক ও মৌ খামারি। তবে মৌমাছির জন্য আবহাওয়া অনূকুলে না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মৌ খামারিরা।

ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর গ্রামের লিচু চাষি মানিক হোসেন বলেন, লিচু এ উপজেলার প্রধান অর্থকরী ফসল। লিচুর ফলন ভালো না হলে এ এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থায় ব্যাপক প্রভাব পড়ে। গত বছর ফলন কম হওয়ায় অনেকেই ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

পাবনার খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) রাফিউল ইসলাম জানান, এ পর্যন্ত আবহাওয়া অনূকূলে থাকায় কৃষি বিভাগের আশা বম্পার ফলনের।

তিনি আরও জানান, চলতি বছর পাবনায় ৪ হাজার ৬২৪ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। আর এ থেকে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪ হাজার ৯৯৮ মেট্রিক টন।

—জা. অর্থনীতি/এনজে