রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ল ১৮ দিনে ৫৯৯ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর দিনই রান্নার কাজে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আরেক দফা বাড়াল বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে ১৮ দিনে ৫৯৯ টাকা বাড়ল ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারে দাম। 

চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম দিন পর্যন্ত দেশে রান্নার কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩৪১ টাকা। ২ এপ্রিল সেটির দাম বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা করে বিইআরসি। গতকাল রোববার আরেক ঘোষণায় এক ধাক্কায় এলপিজির দাম প্রতি কেজিতে ১৭ টাকা ৬২ পয়সা বাড়িয়ে দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এতে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম দাঁড়াচ্ছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। 

বিইআরসির গতকালের আদেশে বলা হয়, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে এপ্রিল মাসের জন্য এ দর ঠিক করা হয়েছে। এ দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন দর কার্যকর হবে।

আগেরবার সৌদি আরামকোর ঘোষিত সিপি, জাহাজ ভাড়া ও ট্রেডারের প্রিমিয়াম বিবেচনায় এলপিজির দাম সমন্বয় করার কথা জানিয়েছিল বিইআরসি। তখন জাহাজ ভাড়া ও ট্রেডারের প্রিমিয়াম ধরা হয়েছিল প্রতি মেট্রিক টনে ১২০ মার্কিন ডলার। এবার বিইআরসি বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংকট, ওই অঞ্চলে এলপিজিবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বিকল্প পথে এলপিজি আনতে হওয়ায় সময় ও জ্বালানি খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি বিমা ও নিরাপত্তা ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এলপিজি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দর সমন্বয় করা হয়েছে।

বিইআরসির নতুন ঘোষণায় খুচরা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির মূসকসহ প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১৪৪ টাকা ৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে এপ্রিলের জন্য ১৬১ টাকা ৬৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই হিসাবে তিন সপ্তাহর মধ্যে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ১৭ টাকা ৬২ পয়সা। গত ২ এপ্রিল ১২ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৮০১ টাকা। ১৯ এপ্রিলে তা বেড়ে ২ হাজার ২১ টাকা হয়েছে। আর ৫ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৭৯২ থেকে বেড়ে হয়েছে ৮৮৯ টাকা।

বড় সিলিন্ডারগুলোর দামও একই হারে বেড়েছে। ১৫ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ১৬১ টাকা থেকে ২ হাজার ৪২৫ টাকা, ১৬ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ৩০৫ থেকে ২ হাজার ৫৮৭ টাকা, ১৮ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ৫৯৩ থেকে ২ হাজার ৯১০ টাকা এবং ২০ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ৮৮১ থেকে ৩ হাজার ২৩৩ টাকা করা হয়েছে। 

এছাড়া ২২ কেজির সিলিন্ডার ৩ হাজার ১৬৯ থেকে ৩ হাজার ৫৫৭ টাকা, ২৫ কেজির সিলিন্ডার ৩ হাজার ৬০১ থেকে ৪ হাজার ৪২ টাকা, ৩০ কেজির সিলিন্ডার ৪ হাজার ৩২১ থেকে ৪ হাজার ৮৫০ টাকা, ৩৩ কেজির সিলিন্ডার ৪ হাজার ৭৫৩ থেকে ৫ হাজার ৩৩৫ টাকা, ৩৫ কেজির সিলিন্ডার ৪ হাজার ৭৫৩ থেকে ৫ হাজার ৬৫৮ টাকা এবং ৪৫ কেজির সিলিন্ডার ৬ হাজার ৪৮২ টাকা থেকে ৭ হাজার ২৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

বিইআরসি প্রতি মাসেই এলপিজির দাম সমন্বয় করে। যদিও ভোক্তাদের অভিযোগ রয়েছে, বাজারে সরকার নির্ধারিত দামে তারা এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে পারেন না। বিক্রেতারা অতিরিক্ত দাম আদায় করে।

২০২১ সালের এপ্রিল থেকে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রতি মাসে এলপিজির এই দুই উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো। এটি সৌদি কার্গো মূল্য (সিপি) নামে পরিচিত। এই সৌদি সিপিকে ভিত্তিমূল্য ধরে দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি। আমদানিকারক কোম্পানির চালান (ইনভয়েস) মূল্য থেকে গড় করে পুরো মাসের জন্য ডলারের দাম হিসাব করে বিইআরসি।

এদিকে জ্বালানি খাতে এই ধারাবাহিক দাম সমন্বয়ের পর বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে, ইতোমধ্যে পিডিবি থেকে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেবে বলে জানা যায়। এতে সামনের দিনে সামগ্রিক ব্যয় আরও বাড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।