বাঁচা-মরার ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ
ক্রীড়া প্রতিবেদক: এক ম্যাচেই সিরিজের রঙ বদলে গেছে। তিন ম্যাচের ওয়ানডে লড়াইয়ে প্রথম ধাক্কাটা খেয়ে এখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে বাংলাদেশের। প্রথম ম্যাচের ধাক্কা ভুলে আজ নতুন করে শুরু করতে নামছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে এখন স্বাগতিকদের জন্য অনেকটাই বাঁচা-মরার লড়াই। এই ম্যাচে হার মানেই সিরিজ হাতছাড়া। তাই ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে বড় পরিবর্তনের আভাস মিলছে বাংলাদেশ শিবিরে। একাদশে পরিবর্তন, ব্যাটিং অর্ডারে নতুন ভাবনা, এমনকি তারকা ক্রিকেটারদের ফেরানোর আলোচনাও চলছে জোরেশোরে।

প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের হারটা কেবল স্কোরলাইনের হার ছিল না, ছিল সুযোগ হারানোরও গল্প। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় সারির দল, যাদের নিয়মিত আট সদস্য এই সফরে নেই, তারাই মিরপুরের কন্ডিশনে গুছিয়ে খেলেছে। তরুণদের নিয়ে গড়া সফরকারী দল ব্যাটে-বলে দেখিয়েছে শৃঙ্খলা, আর বাংলাদেশ হোঁচট খেয়েছে নিজেদের ভুলেই।

২৪৭ রানের লক্ষ্য খুব বড় কিছু ছিল না। কিন্তু রান তাড়ায় শুরু থেকেই ছন্দহীন ব্যাটিং, মাঝের ওভারে চাপ সামলাতে না পারা এবং দায়িত্বশীল জুটির অভাবে ২২১ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে তাই সমালোচনার বড় অংশটাই গিয়ে পড়ে ব্যাটারদের ওপর।

তবে সব হতাশার ভেতরেও আলো ছড়িয়েছেন শরীফুল ইসলাম। একাদশে থাকার কথা ছিল না, কিন্তু শেষ মুহূর্তে মুস্তাফিজুর রহমানের চোটে সুযোগ পান তিনি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২৭ রান খরচায় নেন ২ উইকেট। গতি, নিয়ন্ত্রণ আর ধারালো লাইন-লেংথে নিউজিল্যান্ডকে চাপে রাখার কাজটা করেছেন ভালোভাবেই।

দ্বিতীয় ওয়ানডের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে এসে শরীফুলের কণ্ঠে শোনা গেল আত্মবিশ্বাস। তার বিশ্বাস, একটি ম্যাচ হারেই সব শেষ হয়ে যায়নি। সামনে এখনও দুই ম্যাচ আছে, আর নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারলে সিরিজ ঘুরিয়ে দেওয়াও সম্ভব।

শরীফুল বলেন, ‘মাত্র একটা ম্যাচ গেছে, এখনও দুইটা ম্যাচ আছে। আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে যে, আমরা সিরিজে ফিরতে পারব ইনশাআল্লাহ। প্রথম ম্যাচে আমরা আমাদের সেরা ক্রিকেটটা খেলতে পারিনি। সেরা ক্রিকেট খেলতে পারলে আমরা সিরিজে ফিরতে পারব এবং সিরিজ জিতব।’

প্রথম ম্যাচে বোলাররা কাজটা সহজ করে দিয়েছিলেন বলেই মনে করেন অনেকে। ২৪৭ রানে নিউজিল্যান্ডকে থামানো মিরপুরের উইকেটে মোটেই খারাপ কিছু ছিল না। কিন্তু ব্যাটাররা তা কাজে লাগাতে পারেননি। এ নিয়ে আক্ষেপ আছে কি না, এমন প্রশ্নে শরীফুল দোষারোপের পথে হাঁটেননি। বরং দলগত ব্যর্থতার কথাই বলেছেন।

তার ভাষায়, হারলে সবারই খারাপ লাগে। বোলাররা আরও ভালো করতে পারতেন, ব্যাটাররাও ভালো করতে পারতেন। ক্রিকেটে এমন দিন আসে, যখন এক বিভাগ ভালো করলে আরেক বিভাগ পিছিয়ে যায়। তবে পরের ম্যাচে দুই বিভাগই একসঙ্গে ভালো করবে-এমন আশাই তার।

শরীফুলের প্রথম ম্যাচে খেলার গল্পটাও নাটকীয়। টসের ঠিক আগ মুহূর্তে জানতে পারেন তিনি একাদশে খেলবেন। ড্রেসিংরুমে তখন প্রস্তুতির মাঝেই ছিলেন। সতীর্থদের সঙ্গে কথা বলতে বলতেই খবর পান। পরে সেটিকে তিনি নিজের ভাগ্য বলেই উল্লেখ করেন।

মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরেও ছিল আগ্রহ। প্রথম ম্যাচে তার খেলার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তের চোটে ছিটকে যান। শরীফুল জানিয়েছেন, মোস্তাফিজ এখন অনেকটাই সুস্থ। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচে তাকে পাওয়া যেতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ শিবিরে একাদশ নিয়েও চলছে আলোচনা। সৌম্য সরকারের ফেরার সম্ভাবনা আছে, অন্যদিকে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে বিশ্রামে রাখা হতে পারে-এমন গুঞ্জনও আছে। অবশ্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত টিম ম্যানেজমেন্টের। শরীফুলও জানিয়েছেন, স্কোয়াডের ১৫ জনই প্রস্তুত আছেন, যে দল নামানো হবে, তারাই দায়িত্ব নেবে।

মিরপুরের উইকেট, আবহাওয়া কিংবা পরিস্থিতি নিয়ে বাড়তি অজুহাত দিতে নারাজ এই পেসার। তার মতে, যেভাবে মাঠ পাওয়া যাবে, সেভাবেই খেলতে হবে। প্রস্তুতিটাও সে হিসাবেই নেওয়া হয়েছে।

তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে বাংলাদেশ। আজকের ম্যাচ জিততে পারলে সমতা ফিরবে, হারলে শেষ ম্যাচের আগেই শেষ হয়ে যাবে লড়াই। তাই মিরপুরে আজ কেবল একটি ওয়ানডে নয়, বাংলাদেশের জন্য এটি আত্মবিশ্বাস ফেরানোর পরীক্ষাও।

প্রথম ম্যাচে ভুলের মাশুল দিয়েছে বাংলাদেশ। আজ দেখা যাবে, সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দলটি নতুন গল্প লিখতে পারে কি না!

বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড
২য় ওয়ানডে, বেলা ১১টা
টি-স্পোর্টস