নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাস ফিল্ডে খনন করা হচ্ছে দেশের প্রথম গভীর গ্যাস অনুসন্ধান কূপ। কূপটিতে এক থেকে দেড় ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ আছে। খনন শেষে এ কূপ থেকে প্রতিদিন মিলবে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব এসব তথ্য জানান। গতকাল রোববার দুপুরে সদর উপজেলার বুধল এলাকায় কূপটির খনন কাজের উদ্বোধন করেন পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) এ কে এম মিজানুর রহমান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) পরিচালিত তিতাস গ্যাস ফিল্ডের উৎপাদনে থাকা ২২টি কূপ থেকে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। বর্তমানে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭০০ মিটার গভীর থেকে গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে।
গ্যাসের নতুন উৎস খুঁজতে থ্রিডি সাইসমিক জরিপ প্রকল্প নেয় বিজিএফসিএল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিতাস ও বাখরাবাদ ফিল্ডে খনন করা হচ্ছে দুটি গভীর অনুসন্ধান কূপ। এ দুটি কূপ খননে ব্যয় হবে ৫৯৪ কোটি টাকা। ৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীরতায় তিতাসের নতুন ৩১ নম্বর গভীর অনুসন্ধান কূপটি খননে সময় লাগবে প্রায় সাত মাস। খনন কাজ করছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিসিডিসি।
তিতাস ও বাখরাবাদ ফিল্ডে দুটি গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব জানান, থ্রিডি সাইসমিক জরিপের রিপোর্ট অনুযায়ী কূপটিতে এক থেকে দেড় ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ আছে। এটিই দেশের প্রথম গভীর অনুসন্ধান কূপ। তবে সফলভাবে খনন শেষ করতে পারলে এখানে আরও ৭টি কূপ খনন করা হবে।
বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিক জানান, তিতাস ও বাখরাবাদ ফিল্ডে দুটি গভীর অনুসন্ধান কূপ সফলভাবে খনন করতে পারলে এটি জ্বালানি খাতের জন্য মাইলফলক হবে। জ্বালানি সংকট অনেকটাই কেটে যাবে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) এ কে এম মিজানুর রহমান বলেন, ‘দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে চলতি বছরের মধ্যে ৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ প্রেক্ষাপটে দেশীয় জ্বালানির উৎস অনুসন্ধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ অবস্থায় তিতাসের এই গভীর অনুসন্ধান কূপ খননের উদ্দেশ্য সফল হলে জ্বালানি সংকট অনেকটাই কেটে যাবে।’


