নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের পতনের সময় সরকারের দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেওয়া ঋণের স্থিতি ছিল ৮ লাখ কোটি টাকার কিছু বেশি। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অনেকেরই প্রত্যাশা ছিল, সরকার ব্যয় সংকোচনের পাশাপাশি ঋণ নেওয়ার পরিমাণ কমিয়ে আনবে। যদিও তাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার। দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঋণের বোঝায় ডুবিয়ে গেছে সরকারকে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গতকাল প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এ চিত্র উঠে এসেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, দুই বছরের ব্যবধানে অন্তর্বর্তী সরকারের দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন উৎস থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৩৭ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের ঋণ গ্রহণের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে ইউনূস সরকার। মূলত সরকারের রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের ধস নামায় ও ব্যয়ের লাগাম টানতে না পারায় ঋণ করে ব্যয়ের চাহিদা মিটিয়েছে বিদায়ী সরকার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ৪৫৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। হাসিনার বিদায়ের পর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের ঋণের পরিমাণ এক লাফে দাঁড়ায় ৩১ হাজার ৪২৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অর্থাৎ গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের ঋণ বেড়েছিল প্রায় ৬৯ গুণ।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের ঋণ দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এ সময় দেশে সরকারের বেড়ে দাঁড়ায় ৬২ হাজার ২৪৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। অর্থাৎ সরকারের ঋণ বেড়েছে প্রায় ৯৮ শতাংশ। চলতি অর্থবছর সরকারের ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেওয়া কয়েক গুণ বেড়েছে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস ব্যাংকগুলো থেকে সরকার ৬ হাজার ৭৪৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা নিট ঋণ নিয়েছিল। চলতি অর্বছরের প্রথম ছয় মাসে তা বেড়ে হয়েছে ৫৩ হাজার ৩৫৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
যদিও চলতি অর্থবছর সরকারের সরকারের ব্যাংক-বহির্ভূত ঋণ কমেছে। গত অর্থবছর প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) ব্যাংকের বাইরে থেকে ২৪ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা নিট ঋণ নিয়েছিল সরকার। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে এ খাত থেকে নিট ঋণ নেওয়া হয়েছে ৮ হাজার ৮৬০ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
প্রসঙ্গত, চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর শেষে সরকারের ঋণের স্থিতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৩ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ ইউনূস সরকারের দেড় বছরে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ বেড়েছে পৌনে ৩ লাখ কোটি টাকা।

