আমানুল্লাহ আসিফ, নালিতাবাড়ী (শেরপুর): ভোগাই ও চেল্লাখালী নদীর তীরবর্তী শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে দিন দিন মরিচ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। মরিচের ঝাঁজেই যেন সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলে অপার সম্ভাবনার হাতছানি দেখা দিয়েছে।
নদীর চরাঞ্চল ও সাধারণ জমিতে অন্যান্য ফসলের মতোই মরিচ চাষ করছেন এখানকার কৃষকেরা। এখানে উৎপাদিত মসলা জাতীয় ফসল মরিচের কদর ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। নালিতাবাড়ীর মরিচ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। স্বল্প খরচ ও পরিশ্রমে মরিচ চাষে অধিক লাভবান হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে।
জানা গেছে, উপজেলার মরিচপুরান ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি মরিচ চাষ হয়। ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ কোন্নগর, ফকিরপাড়া, বেনীরগোপ ও মৌলভীপাড়া এলাকায় মরিচ চাষির সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।
এছাড়াও যোগানিয়া, কলসপাড়, নয়াবিল, নন্নী, পোরাগাঁও ও রাজনগরসহ প্রায় সব ইউনিয়নেই কমবেশি মরিচের চাষ হয়ে থাকে। পারিবারিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এসব মরিচ বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নালিতাবাড়ী উপজেলায় ৭৫ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং ইতোমধ্যে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অনেক ক্ষেতেই মরিচ পাকতে শুরু করেছে। কৃষকেরা গাছ থেকে পাকা মরিচ সংগ্রহ করে শুকাচ্ছেন। নদীর চরাঞ্চল কিংবা বাড়ির আঙিনায় এসব মরিচ শুকিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাজারে বর্তমানে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৭০ থেকে ১০০ টাকা এবং শুকনো মরিচ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কৃষকেরা জানান, মরিচ চাষে খরচ তুলনামূলক কম হলেও লাভ ভালো হওয়ায় প্রতি বছরই এ অঞ্চলে মরিচ চাষে আগ্রহ বাড়ছে। প্রতি একর জমিতে সর্বনিম্ন ৮০০ কেজি থেকে সর্বোচ্চ ২৪০০ কেজি পর্যন্ত মরিচের ফলন হয় বলেও জানান তারা।
কৃষক মুনছুর আলী মীর ও হাবিবুর রহমান জানান, সঠিক পরিচর্যা ও অনুকূল আবহাওয়া থাকলে মরিচ চাষে ভালো ফলন ও লাভ পাওয়া সম্ভব।
কৃষক সোহানুর রহমানের ভাষ্যমতে, চলতি মৌসুমে মরিচের ফলন কিছুটা কম তবে বাজারদর আশানুরূপ।
নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মশিউর রহমান দৈনিক জাতীয় অর্থনীতিকে জানান, 'মরিচ চাষীদের জন্য কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। রোগ-বালাই দমন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে,
উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি ও পরিচর্যা সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে।'
—জা. অর্থনীতি/এনজে


