বৈশ্বিক অস্থিরতায় স্থিতিশীল আমিরাত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: একের পর এক বৈশ্বিক আর্থিক সংকট ও মহামারি মোকাবিলায় ধারাবাহিক সক্ষমতার প্রমাণ দিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন; গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে উত্তেজনাকর সময় পার করছে মধ্যপ্রাচ্য। এর পরও আমিরাতে স্থিতিশীল ও পেশাদারিত্বের এক সংযত পরিবেশ দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে দেশটির অর্থনীতি।

বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা চলছে। দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য এক ধরনের ‘চূড়ান্ত পরীক্ষার’ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায়ই বলা হয়, এই দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি—অর্থাৎ উচ্চগতির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার পাশাপাশি বাহ্যিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার ক্ষমতা সহজে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে কৌশলগত পরিকল্পনা ও কাঠামো গড়ে তোলার ফলে অর্থনীতির শক্ত ভিত তৈরি করেছে আমিরাত, যার উদাহরণ ইউএই ২০৩১ ভিশন।

এ ধরনের বৃহৎ সাফল্য তড়িঘড়ি করে তৈরি হয় না। যদি এসব পরিকল্পনার কোনো বাস্তব ভিত্তি না থাকত, তাহলে তার প্রভাব বর্তমান অর্থনৈতিক সূচকে স্পষ্ট হয়ে উঠত। কিন্তু বাস্তবে প্রযুক্তি, লজিস্টিকস ও পর্যটন খাতের বহুমুখীকরণ এমন এক শক্তিশালী সুরক্ষা বলয় তৈরি করেছে যা বৈশ্বিক প্রতিকূলতার মধ্যেও আমিরাতের প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখছে।

এই পরিপক্বতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। জটিল সরবরাহ ব্যবস্থা পরিচালনা ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে এখন যে আত্মবিশ্বাস দেখা যায়, এক দশক আগে তা বিরল ছিল। ফলে আমিরাতকে এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থায়ী, স্বচ্ছ ও পরিশীলিত অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই কঠিন সময়ে মানবিক নিরাপত্তা ও কার্যক্রমের স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ইউএই তার ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও পরিণত করেছে।

আরব আমিরাত এখন জ্বালানি, বাণিজ্য ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সংযোগস্থলে পরিণত হয়েছে। বৈশ্বিক উত্তেজনাময় সময়ে ইউএই নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। দুই দশক আগে ইউএই ছিল সম্ভাবনার গল্প; আজ তা বিশ্বমঞ্চে টিকে থাকার সক্ষমতার উদাহরণ হয়ে উঠছে।