২০ মে থেকে কর্মী ছাঁটাই শুরু করবে মেটা

প্রযুক্তি ডেস্ক: ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা প্ল্যাটফর্মস ইনকর্পোরেটেড তাদের জনবল ছাঁটাইয়ের একটি নতুন সময়সূচি ঘোষণা করেছে। রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগামী ২০ মে থেকে মেটা তাদের প্রথম ধাপের কর্মী ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু করবে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে ২০২৬ সালজুড়ে ধাপে ধাপে আরও কর্মী ছাঁটাই করার পরিকল্পনা করছে। মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গের ‘ইয়ার অফ এফিসিয়েন্সি’ বা দক্ষতা বৃদ্ধির বছরের ধারাবাহিকতায় এই নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রয়টার্স উল্লেখ করেছে যে, মেটা বর্তমানে তাদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। বিশেষ করে মেটাভার্স প্রকল্প এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই গবেষণায় বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করার কারণে প্রতিষ্ঠানটি তাদের সাধারণ অপারেশনাল খরচ কমাতে চাচ্ছে। ২০ মে শুরু হতে যাওয়া প্রথম ধাপের ছাঁটাইয়ে মূলত মধ্যম পর্যায়ের ব্যবস্থাপক এবং নন-ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের কর্মীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। অভ্যন্তরীণ মেমো অনুযায়ী, মেটা তাদের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও ছোট ও গতিশীল করতে চায়, যাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুততর হয়।

২০২৬ সালজুড়ে কয়েক দফায় এই ছাঁটাই চলবে—এমন খবরে মেটার কর্মীদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং ইউরোপ এবং এশীয় অঞ্চলের অফিসগুলোতেও এই ছাঁটাইয়ের প্রভাব পড়বে। মেটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, যারা চাকরি হারাবেন তাদের আইন অনুযায়ী যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্নিয়োগে সহায়তা প্রদান করা হবে। তবে বারবার ছাঁটাইয়ের ফলে প্রতিষ্ঠানের ভেতরকার কর্মপরিবেশ ও মনোবল নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেক বিশ্লেষক।

প্রযুক্তি খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, বিজ্ঞাপন থেকে আয় কমে যাওয়া এবং টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে মেটা তাদের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কঠোর হচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা সাধারণত এ ধরনের ব্যয় সংকোচন নীতিকে ইতিবাচকভাবে দেখেন, কারণ এটি কোম্পানির মুনাফার হার বাড়াতে সাহায্য করে। তবে দীর্ঘমেয়াদে মেধাবী কর্মীদের হারানো মেটার উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা এবং প্রযুক্তি খাতের অস্থিতিশীলতার মধ্যে মেটার এই সিদ্ধান্তটি বড় একটি সংকেত। জাকারবার্গের নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানটি এখন টেকসই প্রবৃদ্ধির চেয়েও ব্যয় কমানোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ২০ মে থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া প্রযুক্তি বিশ্বের শ্রমবাজারে কতটা গভীর প্রভাব ফেলে এবং মেটা তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।