মিরসরাই প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের কয়লা গ্রামের গলাচিপায় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের শ্রী শ্রী গীতা পাঠ ও মহোৎসব অনুষ্ঠান কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় পণ্ড হয়েছে।
গলাচিপার খামারপাড়া এলাকায় গত শুক্রবার একই সম্প্রদায়ের কয়লা মধ্যটিলা ত্রিপুরাপাড়া থেকে আসা কয়েকজন উঠতি বয়সের কিশোর অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। আয়োজক কমিটির সাথে তাদের বাক-বিতণ্ডা হয়। বাগ বিতণ্ডা থেকে এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে দুই সমাজের প্রতিনিধি মিলে বিকালে সমাধানের আশ্বাস দিলে ঘটনা ওইখানে সাময়িক মীমাংসা হয়। পরবর্তীতে কয়লা খামারপাড়া সমাজের সরদার সেকান্ত ত্রিপুরা ও কয়েকজন মিলে মধ্যটিলা সমাজের সরদার নিকেন্দ্র ত্রিপুরার কাছে যাওয়ার সময় পুনরায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে খামারপাড়া এলাকার রুপ কুমার ত্রিপুরা (২৬), পঞ্চ কুমার ত্রিপুরা (৩২), রিফন ত্রিপুরা (২৫), সহেল ত্রিপুরা (২২), আলোমতি ত্রিপুরা (৩৫) ও মধ্যটিলা সমাজের গৃহিণী পুকতি ত্রিপুরাসহ (৪৮) বেশ কয়েকজন আহত হন।
খামারপাড়া সমাজের সরদার সেকান্ত ত্রিপুরা জানান, এটি আমাদের একটি ধর্মীয় গীতা পাঠ মহোৎসব অনুষ্ঠান। এখানে আমাদের প্রায় ১ হাজার ২০০ জনের খাবারের আয়োজন ছিল। সকাল ১০টা থেকে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। সবাই আনন্দ হই-হুল্লোড়ে ব্যস্ত ছিল। অনেকে দুপুরের খাবার নিয়ে ব্যস্ত। এর মধ্যে বিকাল ৩টা নাগাদ মধ্যটিলা সমাজের কিশোর শিপন ত্রিপুরা, রাজীব ত্রিপুরা, তপু ত্রিপুরা, তা জেল ত্রিপুরা, অজিত ত্রিপুরা, রাজেত ত্রিপুরা, সনিক ত্রিপুরা, খোকন ত্রিপুরা, রসুল ত্রিপুরাসহ বেশ কয়েকজন কিশোর মদপান করে অনুষ্ঠানে আসে। এদের বয়স ১৬ থেকে ১৮ হবে। তারা মদ্যপ অবস্থায় অনুষ্ঠানে আগত মেয়েদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে আমরা বিষয়টি সেখানে বুঝিয়ে মীমাংসা করার চেষ্টা করি। কিন্তু আমরা সমাধানের জন্য গেলে সেখানে উল্টো আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
জানা গেছে, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মোহন ত্রিপুরা ও পরেশ ত্রিপুরার নেতৃত্বে কিশোর গ্যাংটি নানা ধরনের অপকর্ম করে আসছে। তাদের ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলতে চায় না।
মধ্যটিলা ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি বৈশ্য কুমার ত্রিপুরা জানান, আমাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি অনাকাঙ্ক্ষিত। কয়েকজন কিশোর এর আগেও এ রকম ন্যক্কারজনক ঘটনা তারা ঘটিয়েছে। আমরা সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করব। যদি সামাজিকভাবে সমাধান না হয় তাহলে আইনের আশ্রয় গ্রহণ করব।
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় গীতা পাঠ ও মহোৎসব পণ্ড হয়েছে এমন কোনো অভিযোগ থানায় এখনও আসেনি। যদি এ বিষয়ে অভিযোগ আসে তাহলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


