নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পবিত্র হজ পালনের জন্য বাংলাদেশের হজযাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। প্রথম ফ্লাইটের ৪১৯ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী নিরাপদে সৌদি আরব পৌঁছেছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইট (বিজি ৩০০১) গতকাল শনিবার ভোর ৪টা ২০ মিনিটে (স্থানীয় সময়) জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ বছর সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে হজ পালনের জন্য সরকার এবং সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলো নিবিড়ভাবে কাজ করছে। হজ মিশন জেদ্দায় হাজিদের প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
সৌদি আরবের উদ্দেশে এই বছরের হজ কার্যক্রম শুরু হয় শুক্রবার গভীর রাতে। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হজ ফ্লাইট-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের পরপরই প্রথম বিমানটি পবিত্র ভূমির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। জেদ্দা বিমানবন্দরে প্রথম ফ্লাইটের বাংলাদেশি হজযাত্রীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। সৌদিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দেলোয়ার হোসেন এবং কাউন্সিলর (হজ) মো. কামরুল ইসলাম বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে তাদের স্বাগত জানান। অভ্যর্থনার অংশ হিসেবে হজযাত্রীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং তাদের হাতে রিফ্রেশমেন্ট কিট তুলে দেওয়া হয়। এই বিশেষ মুহূর্তের জন্য বাংলাদেশ কনস্যুলেট এবং হজ টার্মিনালের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যা দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার একটি ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরে।
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনসুলেটের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং সহকারী মৌসুমি হজ অফিসার মো. রুহুল আমিন উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি ছিল হাজিদের প্রতি বাংলাদেশের কূটনৈতিক সহায়তার প্রমাণ। এছাড়া জেদ্দা হজ টার্মিনালের হেড অব অপারেশন ইয়াহিয়া রাদি এবং হাজিদের অভ্যর্থনায় নিয়োজিত সৌদি প্রতিষ্ঠান নুসুক মারহাবার ম্যানেজার রায়েদ বাকশাউনও উপস্থিত ছিলেন। কর্মকর্তারা হাজিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করার জন্য সহায়তার আশ্বাস দেন। এই যৌথ অভ্যর্থনা নিশ্চিত করে যে, উভয় দেশই হজযাত্রীদের সেরা পরিষেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রথমদিন থেকেই এই সহযোগিতা হজ কার্যক্রমের সফলতার ভিত্তি স্থাপন করে।
৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে প্রথম ফ্লাইটের সফল অবতরণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের হজ কার্যক্রমের শুভ সূচনা হলো। বাংলাদেশের হাজিরা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেজন্য সরকারিভাবে সবধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ মনোনীত এয়ারলাইন্সগুলো ধাপে ধাপে হাজার হাজার হজযাত্রীকে পবিত্র মক্কা ও মদিনায় পৌঁছে দেবে। আগামী দিনগুলোতে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুরো হজ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। হজযাত্রীরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এই পবিত্র সফরে অংশ নিতে পেরে আনন্দিত।


