নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশনেত্রীর স্নেহের ছায়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
সম্প্রতি সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার কথা মনে পড়লে কেমন অনুভূত হয় জানতে চাইলে মির্জা ফখরুলব বলেন, আমি তাকে প্রতি মুহূর্তে অনুভব করি। আমার জীবনের লম্বা পরিসরে দেশনেত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাজ করেছি। তিনি পরম মমতা আর স্নেহের ছায়ায় বছরের পর বছর আমাকে আগলে রেখেছেন। এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক জীবনে খুব সাধারণ একজন মাঠকর্মী থেকে তিনি (খালেদা জিয়া) আমাকে পিকআপ (তুলে এনেছেন) করেছেন। দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন। দেশনেত্রীর সঙ্গে দলের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মনে হয়েছে- শি হ্যাড ব্লেসিং অয়েজ ফর মি। তার আর্শীবাদ ও আস্থা নিয়ে পথ চলতে গিয়ে দেখেছি। তিনি সবসময় আমাকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন, যাতে ভুল পথে পরিচালিত না হই। এমনকি কখনও নিজের অজান্তে ভুল করে ফেললেও দেশনেত্রী আমাকে ক্ষমা করে শুধরে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন।
বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে অন্য কোনো রাজনৈতিক নেতার তুলনা হয় না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বেগম জিয়ার সঙ্গে কারো কোনো তুলনা নেই। তুলনা সম্ভবও না। দেখেন, একটা মানুষ কতটা জনপ্রিয় হলে তার জানাজায় লক্ষ-কোটি মানুষ আসলো। মনে হলো যেন মাটি ফুঁড়ে কী ভীষণ একটা টানে সকলে এসে মিলিত হলো এক জায়গায়। মনে হলো- একেবারে নির্জন-নিঃশব্দ। যখন জানাজা পড়ানো হচ্ছে, তার জন্য দোয়া হচ্ছে, সেই সময়টা ছিল ‘পিনড্রপ সাইলেন্স’ (পিনপতন নীরবতা)। এটা অবিশ্বাস্য। বিএনপির একটা মিটিং কিংবা জনসভাতে দেখা যায়— কত ঝামেলা, অথচ সেদিন কী অদ্ভুতভাবে মানুষ ঠিকই একজন আরেকজনের পেছনে হেঁটে যাচ্ছে, কেউ দেঁৗড় দিচ্ছে না, ধাক্কা দিচ্ছে না। এক অদ্ভুত সুনসান নীরবতা। আমার কাছে মনে হছে এটা আল্লাহ প্রদত্ত একটা ব্যাপার ছিল। এটা নিঃসন্দেহে ঐশ্বরিক ব্যাপার।’
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই নির্বাচনী ইশতেহারে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন, বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসলে একজন কাজ পাগল মানুষ। অতীতেও আমরা দেখেছি— যখন তিনি পুরোপুরি রাজনীতিতে সরাসরি সম্পৃক্ত হননি, তখনও একই রকমই ছিলেন। ২০০১ সালে আমরা সরকার গঠন করার পরে ২০০৭ সালে তিনি ইউনিয়ন পর্যায়ের তৃণমূল পর্যায় থেকে কাউন্সিল করলেন। আমার এখনও মনে আছে, প্রথম কাউন্সিলটা হয় আমার ঠাকুরগাঁওয়ে। সময়টা ছিল ডিসেম্বর মাস, কনকনে ঠান্ডা। এর মধ্যেই আমাদের নেতা এক জেলা থেকে অন্য জেলায় ছুটে বেড়ালেন। তখন থেকেই খেয়াল করেছি— কাজে তার কোনো ক্লান্তি নেই।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, পরবর্তীতে যখন তিনি (তারেক রহমান) নির্বাসিত হলেন, আমরা দেশে থাকলাম, ম্যাডামও জেলে। আমাদের নেতা তখন দূর থেকেই দলের হাল ধরলেন। নিরলস নেতৃত্ব দিতে থাকলেন। ওই সময় ২৪ ঘণ্টা আমাদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ রেখে গেছেন। বলা যায় ‘হি ওয়াজ অলওয়েজ ডিজিটালি টাচ উইথ আস। প্রত্যেকটি এলাকা, থানা এমনকি ইউনিয়ন পর্যন্ত দলের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ডিজিটালি যোগাযোগ করতেন। সেই ধারাবাহিকতা এখনো চলছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু করেছে যে, বহু বছর পরে এ দেশের মানুষ ভিন্নধর্মী একজন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছে। যিনি সাধারণ মানুষের কাতারে থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। আমার খুব দৃঢ় বিশ্বাস তারেক রহমান তার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মা বেগম খালেদা জিয়ার মতোই মানুষের মনে জায়গা করে নেবেন। দেশের কল্যাণের জন্য বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
—জা.অর্থনীতি/আরএস

