প্রযুক্তি ডেস্ক: দীর্ঘ টানাপোড়েন কাটিয়ে চীনের বাজারে নিজেদের আধিপত্য আবারও প্রমাণ করল মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) চীনে আইফোনের শিপমেন্ট বা সরবরাহ গত বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে কাউন্টার পয়েন্ট রিসার্চ ও বাজার সংশ্লিষ্ট তথ্যের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর চিত্র ফুটে উঠেছে। হুয়াওয়ে বা শাওমির মতো স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর তুমুল প্রতিযোগিতার মুখে অ্যাপলের এই প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাপলের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাদের সময়োপযোগী বিপণন কৌশল এবং আকর্ষণীয় ছাড়। বছরের শুরুতে চীনে নববর্ষ এবং বিভিন্ন উৎসব চলাকালীন অ্যাপল তাদের আইফোন ১৫ এবং ১৬ সিরিজের প্রো মডেলগুলোতে বড় ধরনের মূল্যছাড় দিয়েছিল। এ ছাড়া, চীনা গ্রাহকদের মধ্যে প্রিমিয়াম বা দামি ফোনের প্রতি ক্রমবর্ধমান ঝোঁক আইফোনের চাহিদা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
চীনের বাজারে হুয়াওয়ে তাদের নিজস্ব শক্তিশালী ৫জি চিপসেট নিয়ে আসার পর অ্যাপল কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। গত বছর অ্যাপলের বাজার হিস্যা কিছুটা কমলেও নতুন বছরের শুরুতেই তারা তা পুষিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। রয়টার্স উল্লেখ করেছে যে, চীনের উচ্চবিত্ত এবং তরুণ প্রজন্মের গ্রাহকদের কাছে আইফোন এখনও স্ট্যাটাস সিম্বল বা আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে রয়ে গেছে, যা অন্য কোনো স্থানীয় ব্র্যান্ড পুরোপুরি দখল করতে পারেনি।
অ্যাপল কেবল বিক্রিতেই নজর দেয়নি, বরং চীনে তাদের সরবরাহ ব্যবস্থাতেও নতুন করে গতি এনেছে। স্থানীয় উৎপাদনকারীদের সঙ্গে সমন্বয় এবং দ্রুত পণ্য পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা তাদের বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করেছে। এর ফলে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ ছিল, যা চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিক্রি বাড়াতে সাহায্য করেছে।
২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের এই ফলাফল অ্যাপলের শেয়ার বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং চীনের সরকারি কর্মকর্তাদের আইফোন ব্যবহারে বিধিনিষেধের মতো বিষয়গুলো আগামীতে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তবু বছরের প্রথম তিন মাসের এই বড় উল্লম্ফন অ্যাপলকে বিশ্ববাজারে বিশেষ করে এশীয় অঞ্চলে স্বস্তিতে রাখবে।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনে আইফোনের এই ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রমাণ করে যে, সঠিক কৌশল এবং ব্র্যান্ড ভ্যালু থাকলে প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারেও শীর্ষস্থান ধরে রাখা সম্ভব। প্রযুক্তি বাজারে চীনের দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জয়জয়কারের মাঝে অ্যাপলের এই প্রত্যাবর্তন কেবল একটি কোম্পানির সাফল্য নয়, বরং এটি বৈশ্বিক প্রিমিয়াম স্মার্টফোন বাজারের স্থিতিশীলতারও একটি বড় সংকেত।


