নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: আগামী মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। দেশের সবচেয়ে বড় এই পাবলিক পরীক্ষার শুরুর এই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলছে তীব্র দাবদাহ। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লোডশেডিং। বিশেষ করে রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণে ভোগান্তিতে পড়েছে কয়েক লাখ পরীক্ষার্থী।
দেশে জ্বালানি সংকটের কারণে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকের বেশি বসে আছে। বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ২৯ হাজার ২৭০ মেগাওয়াট। আর সর্বোচ্চ চাহিদা থাকছে পিক আওয়ারে ১৬ হাজার মেগাওয়াট। অথচ সক্ষমতার অর্ধেকও উৎপাদন করা যাচ্ছে না জ্বালানি সংকটে। সর্বোচ্চ উৎপাদন নেমে যাচ্ছে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের নিচে। এতে বড় ধরনের লোডশেডিং শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্য মতে, বর্তমানে গ্যাস, কয়লা ও তেল— এ তিন জ্বালানির সংকটে ৬৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বাড়ছে।
ঢাকার বাইরে কয়েকটি জেলার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত তিন-চার দিন থেকে সারা দেশে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। দিন ও রাতের বড় একটা সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন জেলার পৌর এলাকার বাইরে যেসব এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বিদ্যুৎ সরবারহ করে থাকে সেসব জায়গায় লোডশেডিংয়ের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি।
বর্তমানে শহরের চেয়ে গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং বেশি হচ্ছে। হবিগঞ্জের শামীম আহমেদ গত বৃহস্পতিবার জাতীয় অর্থনীতিকে জানান, টানা ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না তার এলাকায়। স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (নবীগঞ্জ) ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন, সারা দিন লোডশেডিংয়ের পর বৃষ্টিতে গাছ পড়ে বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ১৬ এপ্রিল বিকালে বিদ্যুৎ এসেছে তার বাসাসহ পুরো এলাকায়।
মেহেরপুরের অনুরাগ পিয়াল জানিয়েছেন, ‘রাত থেকে ভোর পর্যন্ত চার থেকে পাঁচবার বিদ্যুৎ যায়। দিনে রাতে অর্ধেকের বেশি সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না। একদিকে গরম যেমন বাড়তেছে, সেই সঙ্গে লোডশেডিংও। যেদিন কম সেদিনও ৭ ঘণ্টা, কোনোদিন আবার ১০ ঘণ্টারও বেশি হয় লোডশেডিং।’
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবারের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৫৬ হাজার ৩২৫ জন ছাত্র এবং ৭৪ হাজার ৩৪৩ জন ছাত্রী। কেবল চট্টগ্রাম জেলা থেকেই পরীক্ষায় বসছে ৯২ হাজার ২৯৬ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষার্থীদের এই বিশাল অংশটিই এখন বিদ্যুতের অভাবে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সন্ধ্যা ও রাতে পড়ার সময়েই লোডশেডিংয়ের মাত্রা সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। অনেক এলাকায় দিনে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। নগরীর অপর্ণাচরণ সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের এক শিক্ষার্থী জানান, রাতে পড়তে বসলেই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে আর ভ্যাপসা গরমে পড়ায় মন বসানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বদিরুজ্জামান স্মৃতি শিক্ষা কেন্দ্রের আরেক শিক্ষার্থী ।


