নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে। তবে মোট লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। আগের সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়। আর গত সপ্তাহে চার কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে।
গত সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৮১৮ কোটি ২৯ লাখ ২০ হাজার টাকা। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৬৬৯ কোটি ৬৫ লাখ ৩০ হাজার টাকার। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ১৪৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা বা ২২ দশমিক ২০ শতাংশ।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট টার্নওভার বা লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহে হয়েছিল ৩ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগের সপ্তাহের তুলনায় গেল সপ্তাহে লেনদেন কমেছে ৭৫ কোটি টাকা।
শরিয়া সূচক বাদে বাকি সব সূচক নেতিবাচক হওয়ার পাশাপাশি বাজার মূলধন কমেছে শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশ। তবে বেড়েছে বেশিরভাগ শেয়ারের দর। লেনদেন হওয়া চার কার্যদিবসের মধ্যে তিন দিন সূচকের উত্থান হয়, এক দিন পতন হয়। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকের মিশ্র প্রবণতায় বেশিরভাগ শেয়ারদর বাড়লেও লেনদেন কমেছে।
সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স শূন্য দশমিক ৮৬ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক শূন্য ২ শতাংশ কমে ৫ হাজার ২৫৬ দশমিক ৮৪ পয়েন্টে স্থির হয়। ডিএস৩০ সূচক ১১ দশমিক ৯৮ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯৯০ দশমিক ২৩ পয়েন্টে পৌঁছায়। ডিএসইএস বা শরিয়া সূচক ৩ দশমিক ২৬ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৬ দশমিক ৪৪ পয়েন্টে স্থির হয়। মোট ৩৯০টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২১৩টির, কমেছে ১৪২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৫ কোম্পানির শেয়ারদর। লেনদেন হয়নি ২২টির।
ডিএসইতে গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৬৬২ কোটি ৭৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা। শেষ কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৬৩১ কোটি ৫৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশ বা ৩ হাজার ৩১ কোটি ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
গত সপ্তাহে ডিএসইর টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে ফিনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। সপ্তাহজুড়ে ফান্ডটির দর ৩০ দশমিক ১৯ শতাংশ বেড়েছে। তালিকায় এর পরের অবস্থানগুলোয় থাকা মীর আখতার হোসেন লিমিটেডের দর ৩০ শতাংশ এবং পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের দর ২৬ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ বেড়েছে। ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্সের দর ২১ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং মেঘনা পিইটি ইন্ডাস্ট্রিজের দর ১৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ২৯৫টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৭টির, কমেছে ১২১টির ও অপরিবর্তিত ছিল ২৭টির দর।
সিএসইতে গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএসসিএক্স বেড়েছে শূন্য দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। এছাড়া সিএএসপিআই সূচক কমেছে শূন্য দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ, সিএসই৫০ শূন্য দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং সিএসআই সূচক শূন্য দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ কমেছে। সিএসই৩০ সূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ।
সিএসইতে গত সপ্তাহে টার্নওভারের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৪৯ কোটি ৭২ লাখ ৯৩ হাজার ৬৫৯ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ২৪৩ কোটি ৪৩ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৪ টাকা। লেনদেন বেড়েছে ৯৩ কোটি ৭০ লাখ ৪৬ হাজার ৬৭৫ টাকা।
৪০ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়ে সিএসইতে সাপ্তাহিক টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। ফিনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের দর ২৯ দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়েছে। মীর আখতার হোসেন লিমিটেডের ২৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ ও কৃষিবিদ ফিড লিমিটেডের দর ২০ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়েছে। এর পরের অবস্থানগুলোয় ছিল পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, গোল্ডেনসন লিমিটেড, হামিদ ফ্যাব্রিকস লিমিটেড, এসকে ট্রিমস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।


