প্রাইম ব্যাংকে মাহমুদউল্লাহ, মোহামেডানে বিজয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক: দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে মাঠে ফিরছে দেশের ঐতিহ্যবাহী ঘরোয়া ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ (ডিপিডিএল)। বিসিবিতে পরিবর্তনের পর তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন নতুন অ্যাডহক কমিটির উদ্যোগে আবারও লিগ আয়োজনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের অচলাবস্থা কেটে গেছে আগেই। তাই তো বেশ কিছুদিন অনিশ্চয়তায় থাকার পর দলবদলের মধ্য দিয়ে নতুন মৌসুমের প্রস্তুতি জোরদার করেছে ক্লাবগুলো। গতকাল শনিবার শুরু হয়েছে দলবদল। প্রথম দিনেই প্রাইম ব্যাংকের হয়ে দলবদলের কাজ সেরেছেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দীর্ঘদিন পর আবারও এই ক্লাবে খেলার সুযোগ পেয়ে জানিয়েছেন নিজের ভালো লাগার কথা। সবশেষ বিপিএলসহ ঘরোয়া কয়েকটি টুর্নামেন্টে দেখা যায়নি এনামুল হক বিজয়কে। মূলত ফিক্সিং সন্দেহে তালিকায় নাম থাকায় খেলা হয়নি তার। আসন্ন ডিপিএল দিয়ে আবারও মাঠে ফিরতে যাচ্ছেন এবার বিজয়। মোহামেডানের হয়ে দলবদল শেষ করেছেন এ তারকা উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। আর ঢাকা লিগে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের জার্সিতে মাঠ মাতাবেন নাসির হোসেন।

দেশের অন্যতম সফল ক্লাব আবাহনী লিমিটেড নিজেদের স্কোয়াডে দেশের ক্রিকেটাঙ্গনের পরিচিত মুখদের যুক্ত করেছে। অভিজ্ঞ ও তরুণদের সমন্বয়ে ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল গড়েছে তারা। এবারের আবাহনীর দলে রয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, সৌম্য সরকার, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, জাকের আলী অনিক, সাব্বির রহমান, জিসান আলম, মেহরাব হাসান অহিন, রাকিবুল হাসান, মাহফুজুর রাব্বি, সাব্বির হোসেন, অনিক সরকার, শামসুল ইসলাম অনিক, নাঈমুর নয়ন, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, ইকবাল হোসেন ইমন, মারুফ মৃধা, রোহনতুদুল্লাহ বর্ষণ ও মেহেদি হাসান।

জাতীয় দলের নিয়মিত মুখ নাজমুল হোসেন শান্ত, সৌম্য সরকার ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের মতো ক্রিকেটারদের উপস্থিতি আবাহনীর ব্যাটিং লাইনআপকে করেছে আরও শক্তিশালী। পাশাপাশি জাকের আলী অনিক ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের মতো উইকেটরক্ষক-ব্যাটাররা দলে বাড়তি ভারসাম্য যোগ করেছেন। বোলিং বিভাগেও রয়েছে সম্ভাবনা। সৈয়দ খালেদ আহমেদ, ইকবাল হোসেন ইমনদের মতো পেসারদের সঙ্গে স্পিন আক্রমণে রাকিবুল হাসান ও মেহেদি হাসান থাকায় আক্রমণ ভাগে বৈচিত্র্য পেয়েছে দলটি। তরুণ ক্রিকেটারদের উপস্থিতিও স্কোয়াডকে করেছে ভবিষ্যৎ-নির্ভর।

এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে মোট ১২টি ক্লাব। এর মধ্যে রয়েছে দেশের ঐতিহ্যবাহী দল আবাহনী লিমিটেড, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড, গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স, গুলশান ক্রিকেট ক্লাব, অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব, প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব, বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স (ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব), রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাব, ব্রাদার্স ইউনিয়ন লিমিটেড, সিটি ক্লাব ও ঢাকা লিওপার্ডস।

একই সঙ্গে চলতি মৌসুমে লিগ মাঠে গড়ানো নিয়েও স্বস্তির কথা জানিয়েছেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। শনিবার দলবদলে এসে মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘সবচেয়ে স্বস্তির খবর হচ্ছে প্রিমিয়ার লিগটা মাঠে গড়াতে যাচ্ছে ইনশাআল্লাহ। আমরা সবাই এই সুযোগটার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। ক্রিকেটারদের জন্য এটা অবশ্যই আনন্দের বিষয়।’ গেল কয়েক মাসে লিগ আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে ক্রিকেটারদের মধ্যে যে দুশ্চিন্তা ছিল, সেটিও তুলে ধরেন মাহমুদউল্লাহ। এ ক্ষেত্রে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাড-হক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবালের প্রশংসা করেন মাহমুদউল্লাহ। তিনি বলেন, ‘কৃতিত্ব তামিমকেই দিতে হবে। ও এসে এই উদ্যোগটা নিয়েছে। অবশ্যই এটা ক্রিকেটারদের জন্য বড় আয়ের একটি উৎস, তবে দিনশেষে আমরা সবাই মাঠে থাকতে চাই, খেলতে চাই। মাঠে খেলার সুযোগ পাওয়ার থেকে বড় কিছু নেই।’

মাহমুদউল্লাহ আরও বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি এই দল নিয়ে খুবই খুশি, যেভাবে দলটা তৈরি করা হয়েছে। আমি মনে করি, এটা সম্পূর্ণ ঠিক আছে। টপ অর্ডার থেকে মিডল অর্ডার— যদি আমি বলি টপ অর্ডারে আজিজুল হাকিম তামিম আছে, দিপু আছে; মিডল অর্ডারে আমি আছি, পাটোয়ারী আছে এবং আরও ইয়াং প্লেয়াররা আছে। একই সঙ্গে পেস বোলিং ডিপার্টমেন্ট ভালো, স্পিন ডিপার্টমেন্টও ভালো। অলিস আছে, রাফসান আছে, তানজিম সাকিব আছে ও এনামুল আছে। সব মিলিয়ে অনেক তরুণ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আছে দলে।’

মিরপুরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিজয় বলেন, ‘আসলে একদম ১০০ ভাগ তৈরি বলব না, যেটা খুবই সত্য। কিন্তু আমার হাতে প্রায় ১৫ দিন সময় আছে এবং মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছি, সঙ্গে অনুশীলনও করছিলাম গত কিছুদিন ধরে। তাই আশা করি, প্রিমিয়ার লিগের আগেই খুব ভালোমতো ১০০ ভাগ তৈরি হয়ে যাবে।’

পরে আবাহনী-মোহামেডান খেলা নিয়ে বিজয় বলেন, ‘ছোটবেলার স্বপ্ন ব্যাপারটা এ রকম না, কিন্তু আমরা ছোটবেলা থেকে বড় হয়েছি আবাহনী-মোহামডানকে চিন্তা করে। সেই হিসাব করতে গেলে তো অবশ্যই এটা একটা বড় দল। আমি দীর্ঘদিন আবাহনীতে খেলেছি, আমি প্রাইম ব্যাংকের হয়ে খেলেছি। তো এবার একটা সুযোগ এসেছে এরকম একটা বড় দলে খেলার এবং বিজয়ী দলে খেলতে পারলে মানসিকতা সবদিক থেকে বিজয়ীদের মতোই থাকে।’