ক্যাপ্টেন কার্ড নিয়ে ক্ষোভ তাপসের, কিছুক্ষণ পরই ডিলিট

ক্রীড়া প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ উদ্যোগকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক! সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার তাপস বৈশ্য এই উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, এতে সাবেক ক্রিকেটারদের মধ্যেই বৈষম্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বোর্ড পরিচালনায় সাবেক ক্রিকেটারদের ভূমিকা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তাপস ক্ষোভ ঝেড়েছেন দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বৈষম্যের সংস্কৃতি নিয়ে। তার মতে, অধিনায়কদের জন্য আলাদা সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রবণতা নতুন নয়, তবে ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ সেটিকে আরও প্রকাশ্য করেছে।

তাপস লিখেছেন, ‘এই যুগের বৈষম্য!! আগে থেকেই খেলা দেখার জন্য অধিনায়কদের জন্য এসি বক্স থাকত, আর জাতীয় দলের অন্য সতীর্থদের জন্য সাধারণ গ্যালারি! আর এখন তো কার্ড!’

বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটি দেশের সাবেক অধিনায়কদের সম্মান জানাতে ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ চালু করেছে। যার পরিকল্পনায় আছেন বিসিবির নতুন সভাপতি তামিম ইকবাল। দেশের হয়ে অন্তত একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়া ক্রিকেটারদের এই কার্ড দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় আইসিসি ইভেন্ট, এসিসি ইভেন্ট, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ কিংবা বিপিএল ম্যাচে স্টেডিয়ামে প্রবেশ, ভিভিআইপি পার্কিং, স্বাস্থ্য বিমা ও চিকিৎসা সহায়তার মতো সুবিধা রাখা হয়েছে। দেশের ৩২ জন সাবেক অধিনায়ক—২৭ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী ক্রিকেটার-এই সম্মাননা পেয়েছেন।

তবে তাপসের প্রশ্ন, জাতীয় দলের হয়ে যারা খেলেছেন, তাদের মধ্যে কেন এমন বিভাজন থাকবে, ‘অধিনায়করা রাজা আর বাকিরা প্রজা! অধিনায়ক হলেই তুমি ‘‘চৌধুরী’’ আর অন্য সতীর্থরা? খেলা তো সবাই মিলে- ১১ বা ১৪ জন, খেলা ছেড়ে দেওয়ার পর সবাই জাতীয় খেলোয়াড়!’

২১ টেস্টে ৩৬ উইকেট এবং ৫৬টি ওয়ানডেতে ৫৯ উইকেট নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করেন তাপস। তার ক্যারিয়ারের রঙিন অধ্যায় ছিল ২০০৩ সালের আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্টটি বাংলাদেশের জন্য হতাশার হলেও ব্যক্তিগতভাবে উজ্জ্বল ছিলেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সেই বিশ্বকাপে ১০টি উইকেট নেন তাপস। এই জনপ্রিয় সাবেক অলরাউন্ডার মোহাম্মদ রফিকের উদাহরণ টেনে তাপস এই ব্যবস্থার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘রফিক ভাইয়ের মতো জনপ্রিয় কয়জন খেলোয়াড় বা অধিনায়ক আছেন? রফিক ভাই বসবেন সাধারণ গ্যালারিতে আর আনকোরা অধিনায়ক এসি বক্সে!’

স্বাস্থ্য সুবিধা শুধু অধিনায়কদের জন্য সীমাবদ্ধ রাখার বিষয়েও আপত্তি তার। তাপসের প্রশ্ন, ‘অধিনায়কদের হেলথ ইন্সুরেন্স দরকার আর অন্য সতীর্থদের?’

এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে অন্য সাবেক ক্রিকেটারদেরও মুখ খোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পোস্টে লিখেছেন, ‘কারও যদি আত্মসম্মান থাকে, তাহলে এই বৈষম্যের প্রতিবাদ করবে। যারা কার্ড পেয়েছে তারা করবে না, কারণ তারা এখন বাংলা সিনেমার ‘চৌধুরী’ হয়েছে।

নিজের পরিচয় নিয়েও বিব্রত হওয়ার কথা জানিয়েছেন সাবেক এই পেসার, ‘এই বৈষম্যের কারণে আমি নিজেকে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে পরিচয় দিতেই লজ্জা বোধ করছি। এই যুগে এটা চরম বৈষম্য।’

তবে সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে বোর্ডের নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে। সাবেক ক্রিকেটারদের সভাপতি হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তাপস লিখেছেন, ‘আমি চাই আর যেন কখনও কোনো সাবেক খেলোয়াড় বোর্ড সভাপতি না হয়। সব দেখা হয়ে গেছে।’ পরে অবশ্য পোস্টটি ডিলিট করেছেন তাপস।

বিসিবি এই উদ্যোগকে সাবেক অধিনায়কদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে দেখালেও ক্রিকেট অঙ্গনে তা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তাপস বৈশ্যের বক্তব্যে স্পষ্ট, তার আপত্তি শুধু একটি কার্ডে নয়-বরং ক্রিকেটে সমতার প্রশ্নে!