আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক অকিং মাইনিং জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ-পূর্ব আফ্রিকার দেশ মালাউইর টুন্ডুলু রেয়ার আর্থস প্রকল্পের শতভাগ মালিকানা অধিগ্রহণে সম্মত হয়েছে।
এবিসি নিউজ জানায়, অকিং মাইনিং মূলত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়নে কাজ করে এবং বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে তাদের বৈচিত্র্যময় পোর্টফোলিও রয়েছে। টুন্ডুলু প্রকল্পটি প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ব্যাসের একটি কার্বোনাটাইট কমপ্লেক্স, যা মালাউইয়ের অন্যতম বৃহৎ খনি। তবে এখানে তুলনামূলক কম অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। শুরুর দিকে এখানে মূলত ফসফেট অনুসন্ধান করা হয়। পরে রেয়ার আর্থ বা বিরল মৃত্তিকার খনি আবিষ্কৃত হয়।
এর আগে ১৯৮৭ সালে জাইকা এবং ২০১৪-১৫ সালে মটা-এনগিল/অপ্টিকেম খননকাজ পরিচালনা করে। ওই সময়ে ৮ মিটার গভীর থেকে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ টোটাল রেয়ার আর্থ অক্সাইড (টিআরইও), ১৫ মিটার থেকে ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ৩০ মিটার গভীরে ৪ দশমিক ০৩ শতাংশ টিআরইও পাওয়া যায়।
প্রকল্প এলাকায় ইতোমধ্যে ২৪টি খনি পাওয়া গেছে। এর সবগুলোতেই বিরল খনিজের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আটটিতে টিআরইওর মাত্রা ২ শতাংশের বেশি। টুন্ডুলুতে পাওয়া খনিজে মূল্যবান হেভি ও মিডিয়াম রেয়ার আর্থের উপাদান বেশি। তবে ইউরেনিয়াম ও থোরিয়ামের মাত্রা তুলনামূলক কম।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ অঞ্চলে বিশ্বমানের রেয়ার আর্থ পাওয়া গেছে। এর কাছাকাছি রয়েছে লিনিডয়ান রিসোর্সেসের কাঙ্গানকুন্ড প্রকল্প।
অকিং মাইনিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পল উইলিয়ামস জানিয়েছেন, প্রাথমিক ড্রিলিং কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং ১২ মাসের মধ্যে খনিজ সম্পদ উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই অধিগ্রহণ এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম এগিয়ে নিতে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৩০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার সংগ্রহ করবে। এ জন্য প্রতিটি শেয়ার শূন্য দশশিক ০১৫ অস্ট্রেলীয় ডলার দরে সর্বোচ্চ ২০ কোটি নতুন শেয়ার ইস্যু করা হবে। সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ দিয়ে টুন্ডুলু প্রকল্পের প্রাথমিক মূল্য পরিশোধ করা হবে। পাশাপাশি প্রকল্পটিতে পরিকল্পিত অনুসন্ধান ও ড্রিলিং কার্যক্রম, তানজানিয়া ও তাসমানিয়ায় অন্যান্য প্রকল্পে অনুসন্ধান এবং সাধারণ পরিচালন ব্যয় মেটাতে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।
অকিং মাইনিং জানিয়েছে, অতীতে যেসব অনুসন্ধান করা হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে জেওআরসি ২০১২ কোড মানা হয়নি এবং সেগুলো তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি। ভবিষ্যতে তারা মানদণ্ড অনুসারে নতুন অনুসন্ধান করবে।


