- অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে বকেয়া বাড়ে ৫,২৮৭ কোটি টাকা
- ৯ এপ্রিল বিদ্যুতের বকেয়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ হাজার ৩০১ কোটি টাকা
- ১৯ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় ছিল ৪৬ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা: বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বর্তমানে প্রায় ১২ টাকার কাছাকাছি। তবে এর বাল্ক (পাইকারি) বিক্রয়মূল্য সাড়ে ৬ টাকার কিছু বেশি। এতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিক্রিতে লোকসান হচ্ছে ৫ টাকা ৪০ পয়সা। এ ঘাটতি পূরণে বিদ্যুৎ খাতে নিয়মিত ভর্তুকি দিতে হয়। তবে চাহিদা অনুযায়ী ভর্তুকি না পেয়ে দেনায় ডুবতে বসেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড তথা পিডিবি।
গতকাল জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ খাতের হালনাগাদ বকেয়ার তথ্য তুলে ধরেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া বিল দাঁড়িয়েছে ৫২ হাজার ৩০০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। আর পিডিবির তথ্য বলছে, নতুন সরকার ১৯ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার সময় পিডিবির বকেয়া ছিল ৪৬ হাজার ৯৬০ কোটি ৩১ লাখ টাকা। অর্থাৎ দুই মাসের কম সময়ে পিডিবির দেনা বেড়েছে ৫ হাজার ৩৪০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।
যদিও হাসিনা সরকারের পতনের সময় বিদ্যুৎ খাতের দেনা ছিল ৪১ হাজার ৬৭৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে বিদ্যুৎ খাতে দেনা বেড়েছিল ৫ হাজার ২৮৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা। এতে দেখা যাচ্ছে, ইউনূস সরকারের ১৮ মাসের চেয়ে নতুন সরকারের দুই মাসেই বিদ্যুতের বকেয়া বৃদ্ধির পরিমাণ বেশি।
গতকাল জাতীয় সংসদে জানানো হয়, পেট্রোবাংলার কাছে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানির গ্যাস বিল বাবদ বকেয়া ১১ হাজার ৬৩৪ কোটি ৬ লাখ টাকা। ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিল বকেয়া দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৯১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। বেসরকারি (আইপিপি) বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জ ও জ্বালানি খরচ বাবদ বকেয়া পড়েছে ১৭ হাজার ৩৫৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
এছাড়া দেশি-বিদেশি যৌথ উদ্যোগ ও আইপিপি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওনা রয়েছে ১৫ হাজার ৪৫২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। আর সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জ ও ফুয়েল বাবদ বকেয়া রয়েছে ৫ হাজার ৬২৩ কোটি ৩ লাখ টাকা। এর বাইরেও বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট ব্যাংক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৩১১ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
এদিকে পিডিবির তথ্যমতে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত সরকারি ও বেসরকারি কেন্দ্রের গ্যাস বিল বকেয়া ছিল ১০ হাজার ৪৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। সে সময় বিপিডিবির নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর গ্যাস বিল বকেয়া ছিল ১ হাজার ৮৫৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা। আর ভারত থেকে আদানির বিদ্যুৎ আমদানির বিল বকেয়া ছিল ২ হাজার ৯০৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা বা ২৩ কোটি ৬৭ লাখ ডলার।
গ্যাস ও ফার্নেস অয়েলচালিত বেসরকারি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর (আইপিপি) বিল ১৯ ফেব্রুয়ারি বকেয়া ছিল ১৬ হাজার ৫১৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। আর দেশি ও যৌথ উদ্যোগের কয়লাভিত্তিক আইপিপিগুলোর বিল বকেয়া ছিল ১০ হাজার ৩২৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা। সে সময় সরকারি মালিনাকাধীন ফার্নেস অয়েলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিল বকেয়া ছিল ৫ হাজার ৭১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এছাড়া বিদ্যুৎ সঞ্চালনের হুইলিং চার্জ বকেয়া ছিল ২৪০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
পিডিবির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় অর্থনীতিকে বলেন, বিদ্যুতে যে হারে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে চাহিদা তার তুলনায় অনেক বেশি। শুধু চলতি অর্থবছরেই পিডিবির ঘাটতি দাঁড়াবে প্রায় ৫৪ হাজার কোটি টাকা। অথচ ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ রয়েছে ৩৬ হাজার কোটি টাকা। এত ঘাটতি কোনোভাবেই মেটানো সম্ভব না। গত অর্থবছর ৩৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছিল। তবে সে বছর ঘাটতি ছিল ৫৫ হাজার কোটি টাকার বেশি।
তারা বলেন, ভর্তুকি বাড়িয়ে চাহিদা মেটানো সরকারের পক্ষে সম্ভব না। এছাড়া চাহিদা দিয়েও সে অনুযায়ী ভর্তুকি বরাদ্দ পাওয়া যায় না। তাই দ্রুত বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা দরকার। এতে ঘাটতি কমিয়ে আনা গেলে অবশিষ্ট ভর্তুকি দিয়ে চাহিদা সমন্বয় করা যাবে।


